×

যুক্তরাষ্ট্র

এপস্টেইন ইস্যুতে বিল ক্লিনটন, কিছু দেখিনি, কোনো ভুল করিনি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩২ এএম

এপস্টেইন ইস্যুতে বিল ক্লিনটন, কিছু দেখিনি, কোনো ভুল করিনি

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্যানেলের সামনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বলেছেন, প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে তিনি কিছুই দেখেননি এবং কোনো ভুলও করেননি।

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত সারাদিনব্যাপী এ শুনানি ছিল রুদ্ধদ্বার। সেখানে সম্প্রতি প্রকাশিত নথিতে তার নাম ওঠা, এমনকি একটি হট টাবে অজ্ঞাত এক নারীর সঙ্গে তোলা ছবি নিয়েও তাকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। খবর বিবিসির।

তার সাক্ষ্য দেওয়ার একদিন আগে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও বলেন, এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে তারও কোনো ধারণা ছিল না। তবে নথিতে নাম থাকা মানেই অপরাধে জড়িত থাকা নয়। এ পর্যন্ত সামনে আসা এপস্টেইন ভুক্তভোগীদের কেউই ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে কোনো অসদাচরণের অভিযোগ আনেননি।

বিল ক্লিনটন বলেন, আমি যদি তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সামান্যতম ধারণাও পেতাম, তাহলে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতাম এবং কখনোই তার বিমানে ভ্রমণ করতাম না। জনসমক্ষে প্রকাশিত তার লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি নিজেই তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতাম।

প্রথমদিকে ক্লিনটন দম্পতি কংগ্রেসের সমনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে কংগ্রেস অবমাননার সম্ভাব্য প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আশঙ্কায় তারা শেষ পর্যন্ত হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন।

শুনানিতে বিল ক্লিনটনকে একটি ছবির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যেখানে তাকে হট টাবে এক নারীর পাশে আরাম করে বসে থাকতে দেখা যায়। নারীর মুখ পরিচয় সুরক্ষায় কালো করে দেওয়া হয়েছিল। আইনপ্রণেতাদের তিনি বলেন, ওই নারীকে তিনি চেনেন না। এমনকি তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ছিল কি না, এ প্রশ্নের জবাবেও তিনি ‘না’ বলেন।

কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান জেমস কমার দীর্ঘ সময়ের এ জবানবন্দিকে খুবই ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, বা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তার সাক্ষ্যের ভিডিও ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিলিপি প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

কোমার বলেন, ক্লিনটন দম্পতির সাক্ষ্য ঐতিহাসিক, কারণ কংগ্রেসে জবানবন্দি দেওয়া সর্বোচ্চ পর্যায়ের দুই কর্মকর্তা তারা। এর আগে ১৯৭৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড স্বেচ্ছায় কংগ্রেসে হাজির হয়ে রিচার্ড নিক্সনকে দেওয়া ক্ষমার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।

আরো পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৬ গোপন লকার ভাড়া করেছিলেন এপস্টিন

কোমার বলেন, এটি একটি গুরুতর তদন্ত। আমরা আমেরিকান জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরতে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাব।

বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্যে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে আসে। ডেমোক্র্যাট সদস্যরা দাবি করেন, ক্লিনটনের সাক্ষ্যে ট্রাম্প সম্পর্কিত অতিরিক্ত তথ্য উঠে এসেছে, যা বর্তমান প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে আহ্বান জানানোর যথেষ্ট কারণ।

কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট রবার্ট গার্সিয়া বলেন, ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কিছু আলোচনার বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পকে কমিটির সামনে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

রবার্ট গার্সিয়া বলেন, এখন একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে, বর্তমান ও সাবেক প্রেসিডেন্টরা এই কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে পারেন। তবে জেমস কোমার সাংবাদিকদের জানান, শুনানিতে ক্লিনটনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ট্রাম্পকে কি সাক্ষ্যের জন্য ডাকা উচিত? জবাবে ক্লিনটন বলেন, এটা আপনাদের সিদ্ধান্ত। ট্রাম্প এপস্টেইনের অপরাধে জড়িত, এমন কোনো তথ্য তার জানা নেই।

কোমার দাবি করেন, ক্লিনটনের দেওয়া নতুন তথ্য তার বিশ্বাস পরিবর্তন করেনি যে ট্রাম্প অনেক আগেই দায়মুক্ত হয়েছেন। তার ভাষায়, তিনি অনেক আগেই অব্যাহতি পেয়েছেন।

অন্যদিকে শুক্রবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমি তাকে (ক্লিনটনকে) জবানবন্দি দিতে দেখতে পছন্দ করি না।

শুনানির বিরতিতে দুই দলের আইনপ্রণেতারাই সাংবাদিকদের বলেন, ক্লিনটন সহযোগিতাপূর্ণ ছিলেন, প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করেছেন। বিল ক্লিনটন আগে থেকেই বলে আসছেন, এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান ছিল না এবং প্রায় দুই দশক আগে তিনি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। ২০০১ সালে প্রেসিডেন্সি ছাড়ার পর দাতব্য কর্মকাণ্ডের সূত্রে তাদের যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি। পরে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার জন্য তিনি অনুশোচনা প্রকাশ করেন।

বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে ক্লিনটন দম্পতির নাম শত শত বার এসেছে। তবে এসব নথিতে নাম থাকা মানেই অপরাধে জড়িত থাকা নয়। বিচার বিভাগ ধাপে ধাপে যে নথি প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, এপস্টেইনের সঙ্গে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল, বিশেষ করে ২০০৮ সালে যৌন অপরাধে প্রথম দণ্ডিত হওয়ার পরও।

সাধারণত কংগ্রেসীয় জবানবন্দি রুদ্ধদ্বারেই হয়। তবে ক্লিনটন দম্পতি শুরুতে চান, তাদের সাক্ষ্য প্রকাশ্যে হোক, যাতে প্রেক্ষাপট ছাড়া বেছে বেছে কিছু অংশ গণমাধ্যমে ফাঁস না হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সুবর্ণচরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে বাড়িঘর-জমি দখল, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

সুবর্ণচরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে বাড়িঘর-জমি দখল, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সন্ধ্যায় বিরোধীদলীয় নেতার জরুরি প্রেস ব্রিফিং

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সন্ধ্যায় বিরোধীদলীয় নেতার জরুরি প্রেস ব্রিফিং

মানা হবে না শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

মোদী সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা মানা হবে না শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

বিদায়ী রাষ্ট্রপতির মঙ্গল কামনা করলেন স্পিকার

বিদায়ী রাষ্ট্রপতির মঙ্গল কামনা করলেন স্পিকার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App