ইসরায়েল থেকে মাত্র ১ ডলারে ফিলিস্তিনি জমির দখল নিল যুক্তরাষ্ট্র
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমে স্থায়ী দূতাবাস নির্মাণের জন্য ইসরায়েলের কাছ থেকে প্রতীকী মূল্য ১ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে একটি জমি ৯৯ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছে। এ নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ জমিটি ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) জেরুজালেমে স্থায়ী মার্কিন দূতাবাস চত্বর নির্মাণের লক্ষ্যে জমি ইজারা-সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, জেরুজালেমের মেয়র মোশে লায়নের উপস্থিতিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার এবং ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ৯৯ বছরের জন্য জমিটি যুক্তরাষ্ট্রকে ইজারা দেওয়া হবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রতীকী মূল্য হিসেবে ইসরায়েলকে ১ মার্কিন ডলার পরিশোধ করবে। ওই জমিতে স্থায়ী মার্কিন দূতাবাস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। এর পর ২০১৮ সালের মে মাসে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের অস্থায়ী কার্যক্রম শুরু হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। সমালোচকদের মতে, এটি জেরুজালেমের মর্যাদা বিষয়ে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এদিকে, ২০২২ সালে ইসরায়েলের মানবাধিকার সংস্থা আদালাহ দাবি করে, নতুন দূতাবাস চত্বরের জন্য বরাদ্দ করা জমি ১৯৫০ সালের ‘অনুপস্থিতদের সম্পত্তি আইন’-এর আওতায় ফিলিস্তিনি মালিকদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
সংস্থাটির দাবি, সংরক্ষণাগারের নথি অনুযায়ী ১৯৪৮ সালের আগে জমিটি কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের মালিকানাধীন ছিল। পরে এটি ব্রিটিশ ম্যান্ডেট প্রশাসনের কাছে ইজারা দেওয়া হয়।
আদালাহর মতে, দূতাবাস সম্প্রসারণের জন্য এভাবে জমি ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে হেগ রেগুলেশনের ৪৬ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। ওই অনুচ্ছেদে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
জাতিসংঘ পূর্ব জেরুজালেমকে ১৯৬৭ সালে ইসরায়েলের দখলে যাওয়া ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। সংস্থাটির অবস্থান অনুযায়ী, জেরুজালেমের চরিত্র বা আইনি মর্যাদা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে নেওয়া কোনো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বৈধ নয়।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করলেও জেরুজালেমের চূড়ান্ত মর্যাদা নিয়ে আন্তর্জাতিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখনো ইসরায়েলে তাদের দূতাবাস তেল আবিবেই রেখেছে।
সূত্র: আনাদোলু
