ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর হবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং দেশটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া। তবে চুক্তি ঘোষণার সময় এ শর্তের কথা প্রকাশ করা হয়নি। খবর এনবিসি নিউজের।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তির আওতায় কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি থাকবে না। এটি কেবল বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য প্রযোজ্য এবং সামরিক উদ্দেশ্যে এর ব্যবহার হবে না।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিলেই কেবল পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিটি কার্যকর হবে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল।
তবে বুধবার মার্কিন জ্বালানি বিভাগ চুক্তির ঘোষণা দিলেও সেখানে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া বা আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের কোনো শর্তের উল্লেখ ছিল না। এছাড়া চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠও এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত জানানো হয়নি।
চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান। তবে এটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন পায়নি।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তির বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন বিশ্লেষক। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের চুক্তি ভবিষ্যতে অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। ফলে ট্রাম্পের ঘোষিত শর্ত বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এই চুক্তি কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বের আইনি ভিত্তি তৈরি করবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের লক্ষ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তবে চুক্তি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের দাবি, এতে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পর্যায়ের পরিদর্শন ব্যবস্থা কিংবা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বরং যৌথ সমীক্ষার ভিত্তিতে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ-সংক্রান্ত স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ থাকতে পারে বলেও তারা জানিয়েছেন।
