ক্যালিফোর্নিয়ায় এফ-৩৫বি বিধ্বস্ত, প্রাণে বাঁচলেন পাইলট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি এফ-৩৫বি স্টেলথ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার আগেই পাইলট সফলভাবে ইজেক্ট করে নিরাপদে বেরিয়ে আসায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোর। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সান ডিয়েগোর মিরামার মেরিন কর্পস এয়ার স্টেশনের কাছে যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়। খবর আলজাজিরার।
মেরিন কোরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পাইলটকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং গুরুতর কোনো আঘাত পাননি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আকাশপথে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। ঘটনাস্থলে সামরিক বাহিনী ও দমকল বিভাগের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। আগুন নেভাতে রাসায়নিক পদার্থ ছিটানোর পাশাপাশি ফায়ার হোস ব্যবহার করা হয়।
আরো পড়ুন : মার্কিন সেনাদের কাছে মোবাইল থাকায় সুবিধা পাচ্ছে ইরান, ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
সান ডিয়েগো ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র ক্যান্ডেস হ্যাডলি জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর আশপাশের ঝোপঝাড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
মিরামার বিমানঘাঁটি একসময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিখ্যাত যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণকেন্দ্র ছিল। হলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘টপ গান’- এর কারণে এটি ‘ফাইটারটাউন ইউএসএ’ নামে পরিচিতি পায়। ১৯৯৬ সালে ঘাঁটিটি মেরিন কোরের অধীনে চলে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস (জিএও) জানিয়েছে, দেশটির মেরিন কোর, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কাছে বর্তমানে ৬৩০টির বেশি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান রয়েছে। এফ-৩৫বি সংস্করণটি স্বল্প দূরত্ব থেকে উড্ডয়ন এবং খাড়াভাবে অবতরণ করতে সক্ষম। প্রতিটি বিমানের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার।
জিএওর তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আরো ১ হাজার ৮০০টির বেশি এফ-৩৫ সংগ্রহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনাসহ পুরো কর্মসূচির ব্যয় প্রায় ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্কের তথ্য বলছে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত সাতটি সামরিক বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার মোজাভি মরুভূমির কাছে একটি বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হন।
