ডম্বুর গেট খুলে দেওয়ার আসল তথ্য জানালো ত্রিপুরার সংবাদমাধ্যম
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৪, ১২:২১ পিএম
ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরায় গত তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সেখানকার সরকার। রাজ্যের এক মন্ত্রী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন অগাস্ট মাসে যা বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা স্বাভাবিকের থেকে ১৫১% বেশি। গোমতী জেলাতেই গোমতী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ডম্বুর স্লুইস গেট খুলে দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক বন্যা হয়েছে বলে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।
রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরের অধীন ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি। দফতরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “যে প্রচারটা করা হচ্ছে ডম্বুর গেট খুলে দেওয়া নিয়ে, সেটা অপপ্রচার ছাড়া কিছু না।” “গোমতী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোনও গেট খুলে দেওয়া হয়নি। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জলাধারটির সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ৯৪ মিটার। জলস্তর এর বেশি উঠলেই নিজের থেকেই জল গেট দিয়ে বেরিয়ে যাবে। জলস্তর নিচে নেমে গেলে নিজের থেকেই গেট বন্ধ হয়ে যাবে।
এদিকে, ত্রিপুরার সংবাদমাধ্যমগুলো কিন্তু বলছে ভিন্ন কথা। রাজ্যের বেশ কয়েকটি দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, খোদ ত্রিপুরা সরকারই বাঁধের গেট খুলে দিয়েছে। এমনকি বাঁধ খুলে দেওয়ার বিষয়টি তদারক করেছেন রাজ্যের সোনামুড়া মহকুমার প্রশাসক।
ত্রিপুরার সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক সংবাদ তাদের ২১ আগস্ট সংখ্যায় লিখেছেন ‘টানা বৃষ্টিতে ডম্বুরের জল বিপদসীমার উপরে উঠে যাওয়ায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় সন্ধ্যায় সাড়ে ছয়টায় ডম্বুরের গেট খুলে দেওয়া হয়। এতে গোমতীর জল আরও বেড়ে গিয়ে অমরপুর,উদয়পুর,সোনামুড়ার নদীর দুপাশের প্লাবিত এলাকার জল আরও বেড়ে যায়
ত্রিপুরার প্রথম দৈনিক জাগরণ ত্রিপুরা ২১আগস্ট ‘গোমতী নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, বিপদজনক’ শিরোনামের প্রতিবেদনে জানায়, ‘আজ সকাল ৮:৩৫ মিনিটে ডুম্বুরের তিনটি গেইটের মধ্যে একটি গেইট খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জেলা শাসকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের তরফ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ডুম্বুরের বাঁধ ছাড়ার পরেই গোমতী নদীর জলের স্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে থাকে। সকালে তা অনেকটাই আয়ত্তের বাইরে চলে যায়। সম্পূর্ণ বিষয়টি নিজে উপস্থিত থেকে তদারকি করছেন সোনামুড়া মহকুমা শাসক অরূপ দেব। জেলা শাসকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ডুম্বুর এর একটি গেইট সকাল ৮:৩৫ মিনিটে ছাড়ার পর থেকে রাজারবাগের বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলে তলিয়ে যায়।
দ্যা ফ্যাক্ট অব ত্রিপুরা ২০ আগস্ট ‘বাঁধ খুলে দেওয়া হবে ডুম্বুর জলাশয়ের, সতর্কতা জারি প্রশাসনের’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলেছে, ‘অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ডুম্বুর জলাশয়ে জলের চাপ অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। অবশেষে ডুম্বুর জলাশয় থেকে জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে অমরপুর, উদয়পুর, সোনামুড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
