সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বিদায় নিলে কে হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৪, ০৩:০৭ পিএম
রাষ্ট্র ‘সংস্কার’ এবং ‘ফ্যাসিবাদ’ বিতাড়ণ হওয়ায় এবার শেখ হাসিনার আমলে দায়িত্ব পাওয়া রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি প্রবল রূপ নিয়েছে। হাসিনা উৎখাতে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ আরও কয়েকটি সংগঠন রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে। বঙ্গভবনের সামনে গভীর রাত পর্যন্ত চলেছে বিক্ষোভ, নাটকীয়তা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা ওই দাবির কথা বলতে শুরু করেছিলেন অক্টোবরের শুরুতেই। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার ‘পদত্যাগের’ বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এক বক্তব্য সামনে আসার পর এখন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারাও একই ধরনের ভাবনার কথা বলতে শুরু করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, অন্তর্বর্তী সরকার কি চাইলেই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করতে পারে? আর যদি রাষ্ট্রপতির পদ খালি হয় তাহলে কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ করবো যাকে নিয়ে কোনো বিতর্ক বা প্রশ্ন উঠবে না। যেমন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠেনি।তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে কে আসবে। বুধবার এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত করা হবে। এর পর থেকেই জনমানুষের মাঝে প্রশ্ন কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?
এর আগে আগামী দুই দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সারজিস আলম। ২২ অক্টোবর রাতে বঙ্গভবনের সামনে অবস্থানকালে তারা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।হাসনাত বলেন, আমরা দেখেছি ফ্যাসিস্টদের দোসররা ইতোমধ্যেই দেশের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি শুরু করে দিয়েছে। আমরা যদি তাদের ষড়যন্ত্রের কাছে হেরে যায় তাহলে সব কিছু শেষ হয়ে যাবে। তারা সুযোগ পেলে আবার রাজপথে এসে ষড়যন্ত্র শুরু করতে পারে।
সম্প্রতি মানবজমিনের প্রকাশনা জনতার চোখের প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে- নেপথ্যের গল্পতে প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, ‘রাষ্ট্রপতি তাকে জানিয়েছেন, তিনি শুনেছেন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু তার কাছে কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই।’সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র নিয়ে সমালোচনার পর অবশ্য বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়।
মুলত, ৩ অক্টোবর দুপুরে সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে একটি পোস্টে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবির কথা জানান। তার কয়েক ঘণ্টা পর সমন্বয়ক সারজিস আলমও তার ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে একই কথা লিখে পোস্ট করেন। এরপর-ই এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এখন কি হতে যাচ্ছে বর্তমান রাষ্ট্রপতির ভাগ্যে আর কে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে চলেছে তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরো কয়েকটা দিন।
