×

ভিডিও

নূর হোসেন থেকে আবু সাঈদ, গণতন্ত্রের জন্য জীবনদানের শেষ কবে?

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৪, ০১:১৬ পিএম

১৯৮৭ থেকে ২০২৪ সাল—সময়ের ব্যবধান ৩৭ বছর। গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে দুটি ছবি বেশ নাড়া দেয়। প্রথমটি ১৯৮৭ সালের—বুকে ও পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগান লিখে রাজপথে প্রাণ দেন নূর হোসেন। সর্বশেষটি রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের। গত ১৬ জুলাই ফ্যাসিবাদী সরকারের পুলিশের সামনে বুক পেতে একের পর এক গুলি বুকে নিয়ে শহীদ হন আবু সাঈদ। 

নূর হোসেন ১৯৮৭ সালে তৎকালীন স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের নায়ক। যিনি জীবন্ত পোস্টার হয়ে গণতন্ত্রকামী মানুষের চিরন্তন আকাঙ্ক্ষাকে স্লোগানের অক্ষরে বুকে-পিঠে ধারণ করেছিলেন। তিনি সে সময় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের কর্মী হিসেবে প্রাণ দিয়েছিলেন। আর ২০২৪ সালে এসে আবু সাঈদ সেই আওয়ামী লীগেরই ফ্যাসিবাদী-স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।

নূর হোসেনের আত্মদানের পর ১৯৯০ সালে ৬ ডিসেম্বর এরশাদের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। আর আবু সাঈদের রক্তের বিনিময়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে হওয়া আন্দোলন একপর্যায়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। হাজারের বেশি ছাত্র-জনতার প্রাণহানি এবং অসংখ্য আহত মানুষের রক্তের ওপর ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা।

গণতন্ত্রের জন্য নূর হোসেনের প্রাণ দেওয়ার তিন যুগ পরও গণতন্ত্রকামী মানুষকে রাস্তায় নামতে হয়েছে। সহস্র প্রাণের বিনিময়ে আরেক স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে শহীদ আবু সাঈদদের গণতন্ত্রের জন্য জীবনদানই কি শেষ? আবারও কি স্বৈরাচার ফিরে আসবে? এখন সর্বত্রই এই আলোচনা বিরাজমান।

জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন ১৯৮৭ সালের এই দিনে নূর হোসেন বুকে ও পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগান লিখে রাজপথে বের হয়েছিলেন। সেদিন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি মিছিল পল্টন এলাকার ‘জিরো পয়েন্ট’ অতিক্রম করার সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুড়ে মিছিলটিকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তখন নূর হোসেন ও যুবলীগ নেতা বাবুল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

নূর হোসেনের সেদিনের আত্মত্যাগ মানুষের মনকে নাড়া দিয়েছিল। বুকে-পিঠের স্লোগানসংবলিত তাঁর শরীর হয়ে উঠেছিল আন্দোলনের প্রতীক। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আরও রক্তপাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। বিএনপি দিনটি পালন করে ‘ঐতিহাসিক ১০ নভেম্বর দিবস’ হিসেবে। আর আওয়ামী লীগ দিনটি পালন করে আসছে ‘নূর হোসেন দিবস’ হিসেবে।

তবে, সেদিনের সেই গণতন্ত্রের মুক্তির আন্দোলন করা আওয়ামী লীগ আজ সময়ের ব্যবধানে নিজেই অর্জন করেছে ফ্যাসিবাদী-স্বৈরশাসনের খেতাব। ছাত্র-জনতার অভ্যুন্থানের মধ্যে দিয়ে ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে জান শেখ হাসিনার সরকার। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগকে সেভাবে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।  তবে নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে নেতা-কর্মীদের জড়ো হয়ে মিছিল করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। তবে, পরিস্থিতি ভিন্ন । ছাত্র জনতা কোনভাবেই রাস্তায় নামতে দিতে চায় না দলটিকে। 

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে কাল, একসঙ্গে তিন দেশে উদ্বোধন

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে কাল, একসঙ্গে তিন দেশে উদ্বোধন

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে কাল, একসঙ্গে তিন দেশে উদ্বোধন

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে কাল, একসঙ্গে তিন দেশে উদ্বোধন

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে কাল, একসঙ্গে তিন দেশে উদ্বোধন

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে কাল, একসঙ্গে তিন দেশে উদ্বোধন

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে কাল, একসঙ্গে তিন দেশে উদ্বোধন

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে কাল, একসঙ্গে তিন দেশে উদ্বোধন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App