‘তোমারে মারি***’ প্রতিপক্ষের কিপারকে এমন বাজে স্লেজিং কেন করলেন সাদমান?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:৩৬ পিএম
ক্রিকেট মাঠে স্লেজিংয়ের ইতিহাস বহু পুরনো। প্রতিপক্ষকে কথার তীরে বিদ্ধ করতে গিয়ে মাঝে মাঝে জন্ম নেয় মজার কোনো ঘটনার। তবে স্লেজিংয়ের জবাবে বাংলাদেশের ওপেনার সাদমান ইসলাম, যা করলেন; তা রীতিমত অবিশ্বাস্য।
স্লেজিং সবার জন্য সব জায়গা উপযুক্ত নয়, জ্যামাইকায় টাইগারদের বিপক্ষে সেটা বেশ ভালোভাবেই বুঝেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্লেজিংয়ে বাংলাদেশি ব্যাটারদের কুপোকাত করতে চাইলেও উল্টো মার খেয়েছেন ক্যারিবীয় বোলাররা। ফলে, ১৮ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১৯৩ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে।
লাঞ্চ বিরতির পর মাত্র ৩ ওভারের মধ্যেই স্বাগতিকরা গুটিয়ে গেলে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। এরপর আক্রমণাত্মক বোলিং করতে থাকে ক্যারিবীয়রা। তাতে অবশ্য সাফল্য পাচ্ছিল না দলটি। একপর্যায়ে ক্রিজে থাকা দিপু ও সাদমান ইসলামকে স্লেজিং শুরু করে তারা। স্লেজিং চরম পর্যায়ে চলে গেলে আম্পায়ারকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়। এ সময়ে আম্পায়ারের সঙ্গে স্বাগতিক অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রাথওয়েটকে কথা বলতে দেখা যায়। অপ্রত্যাশিত এসব ঘটনা এড়িয়ে ‘সালা-বল’ স্ট্যাইলে ব্যাটিং করতে থাকেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।
তবে স্লেজিংয়ের জবাবে অবিশ্বাস্য এক কাণ্ড ঘটিয়েছেন সাদমান। ইনিংসের ১৩তম ওভার চলাকালীন, কোনো এক কারণে ডাগ-আউটে গরম পানি চাচ্ছিলেন এই ওপেনার। ডাগ-আউটে ইশারা করে তিনি বলছিলেন, গরম পানি, গরম পানি...।
এ সময়ে বাংলায় মিমিক্রি করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্লেয়াররা বলতে থাকেন, গোরোম পানি, গোরোম পানি। জবাবে সাদমান যা বললেন রীতিমত তা অবিশ্বাস্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি বেশ ভাইরাল হয়েছে। নেটিজেনদের কেউ কেউ বলছেন, সেই বিনোদন! চরম একটা ম্যাচ উপভোগ করছি!
অনেকে আবার বলছে, ভাগ্যিস, স্লিপে থাকা ফিল্ডাররা বাংলা বুঝে না। বাই দ্য ওয়ে ‘চাবি রাখো’ এর ইংলিশটা বলসে আরকি!
এদিকে বার্বাডোজের এই স্টেডিয়ামে চতুর্থ ইনিংসে ২১২ রানের বেশি লক্ষ্য নিয়ে কোনো দলই টেস্টই জেতেনি। যে কারণে মানসিকভাবে আরো বেশি এগিয়ে যাচ্ছে টাইগাররা। সর্বোচ্চ ২১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জয়ের নজির রয়েছে। ২০০৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই লক্ষ্য তাড়া করেছিল স্বাগতিকরা।
এ ছাড়া ২০০ এর লক্ষ্য তাড়ায় আর মাত্র দুটি নজিরই আছে। ২০১২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৬ রানের লক্ষ্য পার করেছিল স্বাগতিকরা। এ ছাড়া ১৫০ এর বেশি রানতাড়া করে জেতার নজিরও দুটি। সেটাও ১৯৮৩ সালে ভারত এবং ২০২১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
অন্যদিকে টেস্ট সিরিজ শেষে আগামী ৮, ১০ ও ১২ ডিসেম্বর ওয়ানডে এবং ১৬, ১৮ ও ২০ ডিসেম্বর টি-টোয়েন্ট সিরিজে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওয়ানডে ম্যাচগুলো হবে।
