×

আবহাওয়া

ঋতুরানী শরতের প্রথম দিন আজ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৪, ১০:১৪ এএম

ঋতুরানী শরতের প্রথম দিন আজ

শরতের শুভ্র শিউলি। ছবি : সংগৃহীত

‘আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ, আমরা গেঁথেছি শেফালি মালা

নবীন ধানের মঞ্জরী দিয়ে সাজিয়ে এনেছি ডালা। 

এসো গো শারদলক্ষ্মী, তোমার শুভ্র মেঘের রথে, 

এসো নির্মল নীলপথে, 

এসো ধৌত শ্যামল আলো-ঝলমল-বনগিরিপর্বতে।’ 

—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ঋতুর পালাবদলে বর্ষাকালকে বিদায় জানিয়ে শরৎ এবার আসন পেতেছে। শ্রাবণের জল-থইথই বিষণ্নতা পেরিয়ে বাঙালির দুয়ারে হাজির হয়েছে শুভ্রতার ঋতু। ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। বর্ষার পরই আসে শরৎ। বাংলা ঋতুর হিসাব অনুযায়ী ভাদ্র-আশ্বিন এই দুই মাস শরৎকাল।

আজ পহেলা ভাদ্র। শরতের প্রথম দিন। বর্ষার বিষন্নতা পরিহার করে শরৎ আসে। প্রকৃতি এ সময় নববধূর সাজে সজ্জিত হয়ে উঠে। শরতের সৌন্দর্য আবহমান বাংলার প্রকৃতিতে ঋতুবৈচিত্র্যের অন্যতম অনুঘটক। আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টিমুখর দিন শেষে শরতেই প্রকৃতি হয়ে ওঠে শুভ্র ও সবুজ। আকাশে ওড়ে পেঁজা তুলার মতো মেঘ; ঘাসের বনে বাতাসে দোলে সাদা কাশফুল। শরতের এমন মোহনীয় সৌন্দর্যের জন্যই তাকে ঋতুরানী বলা হয়। শরতের রূপের প্রেমে পড়ে কত যে কবি-সাহিত্যিক এ ঋতু নিয়ে সাহিত্য রচনা করেছেন, তার হিসাব নেই।

কবি বিনয় মজুমদার তার কবিতায় লিখেছেন– ‘শরতের দ্বিপ্রহরে সুধীর সমীর-পরে জল-ঝরা শাদা শাদা মেঘ উড়ে যায়; ভাবি, একদৃষ্টে চেয়ে, যদি ঊর্ধ্ব পথ বেয়ে শুভ্র অনাসক্ত প্রাণ অভ্র ভেদি ধায়!’ 

শরৎ বন্দনায় রবি ঠাকুরের তো জুড়ি মেলা ভার। তার অসংখ্য লেখায় ফুটে ওঠেছে শরতের নানা রূপের বর্ণনা। শরতের কাশফুলে আকর্ষিত হয় না, এমন কাউকেই হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবে না। কাশফুল নদী তীরে বনের ধারে গ্রামের ও প্রান্তে অপরূপ শোভা ছড়ায়। এমন অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পুলকিত করেনি এমন মানুষ খুঁজে মেলা ভার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন—

‘আজি কি তোমার মধুর, মুরতী

হেরিণু শরৎ প্রভাতে হে মাতা

বঙ্গ শ্যামল অঙ্গ ঝরিছে অনল শোভাতে।’

আবার-

‘এসো শরতের অমল মহিমা, এসো হে ধীরে।

চিত্ত বিকশিবে চরণ ঘিরে

বিরহ তরঙ্গে আকুলে সে দোলে

দিবাযামিনী আকুল সমীরে।’

শরৎ-এ মুগ্ধ কবি আরো লেখেন—

‘শরতে আজ কোন অতিথি এলো প্রাণের দ্বারে।

আনন্দগান গা রে হৃদয়, আনন্দগান গা রে...।’

আশ্বিনে সমস্ত স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে কাশবনে। সোনাঝরা রোদে হেসে ওঠে শিউলি ফুল। শুধু শিউলি আর কাশফুলের গান গাইলে চলবে কেন। এ সময়ে গাছে গাছে ফোটে ছাতিম, দোলনচাঁপা, জারুল, মধু মঞ্জুরি, কামিনী, নয়নতারাসহ আরও কত ফুল। এসব ফুলের অনেকগুলোই শরতের আগমনী বাণী নিয়ে আসে। 

শহরে শরৎকে ঘিরে আনন্দ–উৎসব চললেও গ্রামীণ পরিবেশে শরৎকে নিবিড়ভাবে উপলব্ধি করা যায়। টলটলে নীল নদীর ধার ঘেঁষে সাদা কাশফুল ফুটে থাকে। মৃদুমন্দ হাওয়ায় দুলে ওঠে তারা। নদীর ওপার ছুঁয়ে থাকা আকাশে ভেসে বেড়ায় শুভ্র মেঘের ভেলা। আর আঁধার নামলে স্বচ্ছ আকাশ আঁচলে ফুটে ওঠে লক্ষ কোটি তারা।

শরতের প্রকৃতি সবার মনকেই জাগ্রত করে। এ সময়ে রোদ-বৃষ্টির খুনসুটি চলে যেমন, তেমনি সহসা মৃদু হাওয়া ও শুভ্রনীল আকাশ মনকে করে তোলে প্রফুল্ল। আর এ জন্যই কবিগুরু বলেছেন, ‘শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি।/ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুলি।।/শরৎ, তোমার শিশির-ধোয়া কুন্তলে/বনের-পথে-লুটিয়ে-পড়া অঞ্চলে/আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি।’  

আরো পড়ুন : সাগরে লঘুচাপের আভাস, যেসব জেলায় হতে পারে বজ্রবৃষ্টি

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজরদারিতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান চান ফলকার টুর্ক

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজরদারিতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান চান ফলকার টুর্ক

অবৈধ অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টের সঙ্গে জড়িত কারা, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধ অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টের সঙ্গে জড়িত কারা, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরোনো পাতায় নতুন গল্প: সোনাদীঘির অর্ধশতকের পাঠশালা

পুরোনো পাতায় নতুন গল্প: সোনাদীঘির অর্ধশতকের পাঠশালা

পুলিশ সদস্যের বাসায় মিলল ৯০ হাজার পিস ইয়াবা

পুলিশ সদস্যের বাসায় মিলল ৯০ হাজার পিস ইয়াবা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App