মঙ্গলবার থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আভাস, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
আজও কুয়াশার চাদরে ঢাকা সারা দেশ। কোথাও সূর্যের দেখা মেলেনি। পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। টানা তিন দিন ধরে চলমান শৈত্যপ্রবাহ শুক্রবারও দেশের ২১টি জেলাকে ঘিরে ধরে। বৈরী আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও প্রান্তিক মানুষ।
এর মধ্যেই শীত নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও ৬ জানুয়ারি সকাল থেকে দেশে শীতের তীব্রতা আবারও বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে দেশের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানান, চলতি শীত মৌসুমে দেশের ওপর দিয়ে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি হবে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার (৮-১০ ডিগ্রি থেকে ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং এক থেকে দুটি হতে পারে মাঝারি থেকে তীব্র (৬-৮ ডিগ্রি থেকে ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ।
এদিকে যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। চলতি মৌসুমে এ নিয়ে চার দিন যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।
টানা শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে শহর ও গ্রামে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী চরম দুর্ভোগে রয়েছে। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে সড়ক-মহাসড়ক, যার প্রভাব পড়ছে বিমান, সড়ক ও নৌ যোগাযোগে। গতকাল সকালে ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়। ঢাকার এসব ফ্লাইট চট্টগ্রাম, কলকাতা ও ব্যাংককে পাঠানো হয়েছে। সড়কে কুয়াশার কারণে একাধিক যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, গত তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। শুক্রবারও সাতটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। প্রথম দিন, ৩১ ডিসেম্বর বরিশাল ও খুলনা বিভাগসহ কয়েকটি অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়, পরে তা কিছুটা কমে আসে। তবে ৬ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে আবারও শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে এবং দু-একটি এলাকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এবার শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা কিছু কিছু এলাকায় প্রশমিত হতে পারে।
এদিকে আজও কুয়াশার দাপট অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় চালকদের সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। অন্যদিকে মৌসুমি লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করলেও আপাতত দেশের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে।
গতকাল সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহজুড়েই কনকনে শীতের আমেজ বজায় থাকতে পারে।
