টানা বৃষ্টির আভাস, বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত
আগামী চার দিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি এবং নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বুধবার (২২ জুলাই) প্রকাশিত পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
শুক্রবারও দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
আরো পড়ুন : ঢাকাসহ ১০ অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা
শনিবার খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববারও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এদিনও দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টির প্রভাবে দেশের কয়েকটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপরে উঠেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর তিনটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলিতে ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সোমেশ্বরী নদীর পানি নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। তবে সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আরো বাড়তে পারে এবং কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।
এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে রাজশাহী বিভাগের আত্রাই নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে নদীটির পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করলে নওগাঁ জেলার নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী, ফেনী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বর্তমানে কমতির দিকে থাকলেও আগামী দুই দিনে বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। ফলে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া ব্রহ্মপুত্রের পানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মার পানি বাড়ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে।
উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছুটা কমলেও আজ লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের কয়েকটি স্থানে এ দুই নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। তবে নেত্রকোনার চলমান বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলেও জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
