উপকূলের দিকে ‘ঘূর্ণিঝড় অর্ণব’, আঘাতের সম্ভাব্য স্থান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ গ্রাফিক্স
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে ভারতের পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, সিস্টেমটি এখনো গভীর নিম্নচাপ পর্যায়ে থাকায় এটিকে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ হিসেবে চিহ্নিত করার সময় আসেনি। বর্তমানে এটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) এর পূর্বাভাসের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির বার্তা সংস্থা ইন্ডিয়া টুডে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ (বুধবার) রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের মধ্যে ভারতের পূর্ব উপকূলে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি। বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মধ্যবর্তী উপকূল, বিশেষ করে কালিঙ্গপটনমের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে এটি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)।
কখন ও কোথায় স্থলভাগে প্রবেশ করবে
গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। সম্ভাব্য স্থলভাগে প্রবেশের এলাকা বিশাখাপত্তনম থেকে গোপালপুরের মধ্যবর্তী উপকূলীয় অঞ্চল। এর মধ্যে কালিঙ্গপটনমের আশপাশকে সম্ভাব্য এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার রাতেই সিস্টেমটি উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সমুদ্র উত্তাল থেকে অতি উত্তাল থাকতে পারে।
উপকূলের কাছাকাছি ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিও এর চেয়ে বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরো পড়ুন: পুলিশের ৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি
কোন রাজ্যে বেশি প্রভাব পড়তে পারে
প্রাথমিকভাবে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ ওড়িশা এবং উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
ওড়িশা
দক্ষিণ ওড়িশায় ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। কোরাপুট, গজপতি ও গঞ্জামসহ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়ার পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে রাজ্যের কয়েকটি জেলায় স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। খুরদা, জগৎসিংহপুর, গঞ্জাম ও গজপতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মালকানগিরিতে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রশাসনের প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে। কোথাও জরুরি উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে, আবার কোথাও সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ
উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম ও রায়ালসীমার বিভিন্ন এলাকায় ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
শ্রীকাকুলাম ও বিজয়নগরম জেলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় বুধবার স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে অতিবৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে আইএমডি।
পশ্চিমবঙ্গেও প্রভাবের আশঙ্কা
সরাসরি স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাব্য এলাকা পশ্চিমবঙ্গ নয়। তবে বঙ্গোপসাগরের সিস্টেমটির প্রভাবে রাজ্যের উপকূলীয় জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া হতে পারে।
আইএমডি ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টি, বজ্রঝড় ও ঝোড়ো আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে। সাগরে তৈরি হওয়া সিস্টেমটির প্রভাবে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির মাত্রা বাড়তে পারে।
সমুদ্রে যেতে নিষেধ জেলেদের
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার আশঙ্কায় জেলেদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলসংলগ্ন সাগর ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তাল থেকে অতি উত্তাল থাকতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিহারেও থাকতে পারে প্রভাব
স্থলভাগে প্রবেশের পর সিস্টেমটির প্রভাব উপকূলীয় রাজ্যগুলোর বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিহারে ২৩ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজ্রপাত, বজ্রঝড় ও শক্তিশালী বাতাসের সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সেখানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং পরবর্তী সময়ে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
‘অর্ণব’ নামে ঘূর্ণিঝড় কি তৈরি হচ্ছে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘অর্ণব’ নামে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে—এমনটি নিশ্চিত নয়। আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের সিস্টেমটি গভীর নিম্নচাপ হিসেবেই উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা বেশি। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তবেই ‘অর্ণব’ নামটি প্রযোজ্য হবে।
তবে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ না নিলেও সিস্টেমটির প্রভাবকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। ভারী থেকে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি, ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তাই আপাতত মূল উদ্বেগ ‘অর্ণব’ নামটি নয়, বরং বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে সম্ভাব্য ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং উত্তাল সমুদ্র পরিস্থিতি।
