আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আগস্টে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একক মাস হিসেবে গত আগস্টে দেশটিতে পোশাক রপ্তানিতে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ৮১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬৫০ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার।
অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে ৮০৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার। বিপরীতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট রপ্তানিকে ১২ মাসের গড় হিসেবে ধরলে মাসিক রপ্তানি ছিল ৬৪৫ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গড় আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশই এসেছে আগস্টের শক্তিশালী পারফরম্যান্স থেকে। ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ বাড়ায় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির গতি জোরালো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৯ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক বাজার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪ দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে তৈরি পোশাক থেকেই এসেছে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ, পোশাকের বাইরে অন্যান্য পণ্য থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও মেলামাইন পণ্য, টেক্সটাইল ও সুতা, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য, জুতা এবং অন্যান্য শিল্পপণ্য।
এ ছাড়া উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পোশাকের রপ্তানি বাড়ানোরও সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি এসব সম্ভাবনাময় খাতেও রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
অর্ডার বাড়ার আশা রপ্তানিকারকদের
রপ্তানিকারকদের ধারণা, আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের অর্ডার আরও বাড়তে পারে।
দেশের পোশাক শিল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা ও বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বাসসকে বলেন, শীতকালীন পোশাকের অর্ডার দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার কারণে আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের নিজস্ব সক্ষমতা রয়েছে। সেই সক্ষমতার কারণেই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
আগের কয়েক মাসের তুলনায় আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভালো অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে ফজলুল হক বলেন, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে পারলে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি কয়েক গুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য ভবিষ্যতে পণ্যের বৈচিত্র্য আনার ওপর জোর দেন তিনি।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ও ফতুল্লা অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামীম এহসান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং উদ্যোক্তারা সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন।
তাঁর মতে, প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরকারের নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে এই সুযোগ আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
১২ মাস ধরে গতি থাকলে আয় ৯ বিলিয়ন ডলার
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল বাসসকে বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির যে গতি রয়েছে, তা আশাব্যঞ্জক। এই প্রবৃদ্ধির ধারা আগামী ১২ মাস অব্যাহত থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি থেকে আয় ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একক বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। তাই সেখানে রপ্তানি বাড়াতে পণ্যের বৈচিত্র্য, উচ্চমূল্য সংযোজন ও পণ্যের মানোন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি পোশাক রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জ্বালানিসহ অন্যান্য ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
পোশাকের বাইরে অন্যান্য খাতেও সুযোগ
তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া, পাট, হোম টেক্সটাইল, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ, প্লাস্টিক এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একক বৃহত্তম বাজার হিসেবে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
চলতি অর্থবছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি এবং আগস্টে একক মাসে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি দেশটির বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
