বোমা বিস্ফোরণে দগ্ধ হনুফার ৯ দিনের লড়াই শেষ
এম.কে. রানা, বরিশাল
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৫ এএম
ছবি : ভোরের কাগজ
বরিশালের বাকেরগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ হনুফা বেগম (৫০) অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন। নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের জামাতা সুজনের বরাত দিয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানান, গত ৩ আগস্ট সোমবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, তার মেয়ে ইতি এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাতি ফাহিম অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হনুফার মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিম সুস্থ হয়ে উঠলেও গুরুতর দগ্ধ হনুফা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বুধবার বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন বহন করবে। একই সঙ্গে নিহত হনুফা বেগমের মরদেহ বরিশালে ফিরিয়ে আনার খরচও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হবে।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহম্মেদ বলেন, হনুফা বেগমের মৃত্যুর খবরে তারা মর্মাহত ও ব্যথিত। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অন্যরা সুস্থ হয়ে উঠলেও হনুফা বেগমকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হবে।
