উপাচার্য পুনর্বহালের আন্দোলনে অচলাবস্থা চুয়েটে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
ফাইল ছবি
অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সপ্তম দিনের মতো অচল রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল আটটা থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ করে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর পাশাপাশি সকাল নয়টা থেকে শুরু হয় গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে চুয়েট শিক্ষক সমিতি দ্বিতীয় দিনের মতো ‘সর্বাত্মক কর্মবিরতি’ পালন করছে। সকাল থেকেই শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভ মিছিল করার কথা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য:
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, “যতক্ষণ না আমাদের দাবি আদায় হচ্ছে, আমরা ক্যাম্পাস ছাড়ব না। আমরা বিশ্বাস করি, সরকারপ্রধান আমাদের বিষয়টি সদয় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত একটি সুষ্ঠু সমাধানের মাধ্যমে আমাদের ক্লাসে ফেরার ব্যবস্থা করবেন।”
আরেক শিক্ষার্থী জানান, উপাচার্য পদে অধ্যাপক সায়েমকে ফেরাতে শাটডাউনের আজ এক সপ্তাহ পূর্ণ হলো। বিক্ষোভ ও গণঅবস্থান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘চাহিদামতো বোয়িং কিনব, গোপন চুক্তির কিছু নেই’
এক ছাত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “এক সপ্তাহ ধরে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমরা পিছিয়ে পড়ছি। আমরা দ্রুত ক্লাসে ফিরতে চাই, তাই সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা হোক।”
আন্দোলনের সূত্রপাত যেভাবে:
গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। কিন্তু মাত্র ৫৬ দিন পর ২১ সেপ্টেম্বর তাকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কোনো কারণ ছাড়াই এই উপাচার্য পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপন জারির রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে মূল ফটক বন্ধ করে শাটডাউন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
ধাপভিত্তিক আন্দোলন ও সংঘাত:
২৪ সেপ্টেম্বর: অনলাইনে উপাচার্য পদে যোগ দেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তিনি জানান, সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধান করতে চান। তবে সেদিনই সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষক সমিতি নতুন উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে চায় না বলে জানায় এবং রাতেই শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল করেন।
২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর: নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল, মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে পাহারা দেওয়া এবং ‘লাল কার্ড প্রদর্শন’ কর্মসূচি পালন করেন। এছাড়া সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী গ্রাফিতি আঁকা হয়।
২৭ সেপ্টেম্বর: শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ রেখে ‘৫৬?’ লেখা কার্ড হাতে প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা কর্মসূচি ও সংবাদ সম্মেলন করেন। ৫৬ দিনের মাথায় কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই উপাচার্য অপসারণের প্রতিবাদ জানান তারা। একই দিন থেকে চুয়েট শিক্ষক সমিতি সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করে এবং অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানায়।
চলমান এই সংকট নিরসনে দ্রুত সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
প্রতিবেদনটি সংবাদমাধ্যমের প্রমিত রীতি ও কালানুক্রমিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পরিমার্জন করা হয়েছে। এতে কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হলে জানাতে পারেন।
