তদন্তে অবৈধ স্থাপনা প্রমাণিত, উচ্ছেদে ধীরগতি
কামরুল হাসান রুবেল, রাঙ্গাবালী( পটুয়াখালী)
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চর মোন্তাজ ইউনিয়নে সরকারি খাসজমি দখল করে বরফকল নির্মাণের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর তীর থেকে মাটি কেটে জায়গা ভরাট করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। স্থাপনাটি উচ্ছেদেরও সুপারিশ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লঞ্চঘাটসংলগ্ন মানতা কলোনির দক্ষিণে নদীর তীরভূমিতে ‘আসিফ আইচ ফ্যাক্টরী’ নামে বরফকলটি নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, মো. আবুল কাসেম এটি নির্মাণ করছেন।
বরফকলটির পরিবেশগত ছাড়পত্রের জন্য গত ৭ মে আবেদন করা হলেও আবাসিক এলাকা থাকায় পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী ছাড়পত্র দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানায় পরিবেশ অধিদপ্তর। পরে ৭ জুনের চিঠিতে নির্মাণকাজ ও কার্যক্রম বন্ধ করে বরফকলটি অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: মহাসড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই অটো জরিমানা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তবে নির্দেশ জারির এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও স্থাপনাটি বন্ধ বা সরানোর দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক লোভানা জামিল বলেন, ‘আমাদের চিঠির কোনো উত্তর এখনো পাইনি। দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।’
এদিকে খাসজমিতে নির্মিত বরফকলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। চর ফ্যাশন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (দক্ষিণ অঞ্চল) মার্কেটিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, সংযোগটি আগে চর ফ্যাশনের খেজুরবাড়ী এলাকার একটি বরফকলের নামে ছিল। আবেদনের পর সেটি চর মোন্তাজে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে জায়গাটি খাসজমি—এ তথ্য আমাদের জানা ছিল না।
জেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ১১ মে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ১৩ মে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে স্থাপনাটি সরকারি খাসজমিতে অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছে উল্লেখ করে উচ্ছেদের সুপারিশ করা হয়।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহসিন উদ্দিন বলেন, উচ্ছেদের জন্য রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
তবে তদন্তে অবৈধ দখল প্রমাণিত হওয়ার পরও উচ্ছেদে ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন—সরকারি জমি দখল ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশ অমান্যের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এত সময় লাগছে কেন? বরফকলের মালিক আবুল কাসেমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
