×

মুক্তচিন্তা

বিশ্ব শিক্ষক দিবস

শিক্ষকতা: পেশার আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে মহত্ত্ব

Icon

নাজমুল হুদা

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

শিক্ষকতা: পেশার আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে মহত্ত্ব

ছবি: এআই নির্মিত

ছুটির পর গ্রামে রাস্তা দিয়ে স্থানীয় স্কুলের এক শিক্ষক রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছেন। তার পিছু পিছু নিজের একটা জরাজীর্ণ সাইকেল নিয়ে এক শিক্ষার্থী হাটছেন। আবার ওপর পাশ থেকে আরেক শিক্ষার্থীর সাইকেলে করেই আসছিলেন, হটাৎ শিক্ষককে দেখেই খানিকটা দূরে নেমে গেলেন সাইকেল থেকে। একহাতে সাইকেল ধরে শিক্ষকের দিকে এগিয়ে আসছেন ঐ শিক্ষার্থী, আর অন্য হাত বারবার উচিয়ে শিক্ষকের মনযোগ আকর্ষণ করে সালাম ও সম্মান জানানোর চেষ্টা করছেন।

কিছুদূর যাবার পর ঐ শিক্ষক লক্ষ্য করলেন, দুইজন শিক্ষার্থী সাইকেল থেকে নেমে রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছেন। তা দেখে সালামের জবাব দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে চলে যেতে বললেন। তারপরও ফের সালাম দিয়ে বেশ খানিকটা দূরে গিয়ে সাইকেলে উঠে বাড়ির পথে রওনা দিলেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীর সম্মান প্রদর্শনের এ দৃশ্য যেন এক সময়ের চিরচেনা চিত্র। 

তবে এ চিত্র যেন আজ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে গড়ে ওঠা এ সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এখন আর দেখা যায় না। এ গল্প ইতিহাস বা সাহিত্যে জায়গা না পেলেও কারো কাছেই অজানা নয়। তাছাড়া এলাকার ময়মুরব্বীদের মুখে শিক্ষকদের নিয়ে কোন কথা উঠলে কথার ছলে শরীরের পশম কাটা দেওয়ার মতো নানা ঘটনা জানার সুযোগ হয়। তবে বর্তমানে প্রযুক্তির তালে তালে সময়ের পরিবর্তনের সাথে হারাতে বসেছে এক সময়কার এ সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পের্কের কথা। আর এ সম্পর্ক বিনষ্ট দিনে দিনে শিক্ষক মর্যাদাকেও ক্ষুণ করচ্ছে। মানবিক শিক্ষক হয়ে ওঠার গল্পগুলো এখন আর শোনা হয়ে উঠে না। 

কিন্তু এ সম্পর্ক তো আর একদিনে নষ্ট হয় নি। আর শিক্ষার্থীরাও একদিনে হটাৎ করে এ সম্পর্ক বিনষ্টের কারিগর হয়ে উঠে নি। এর পেছনে রয়েছে নানা কারণ, নানা বাস্তবতা। শিক্ষক পেশাকে অবমূল্যয়ন, শিক্ষকতা পেশায় রাজনীতিকরণ, পাঠদানে অদক্ষতা, পেশাগত প্রশিক্ষণের ঘাটতি, দলীয় বিবেচনায় নিয়োগসহ নানা কারণেই শিক্ষকতার মতো মহান পেশার মর্যাদা ক্ষু্ণ্ন হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, ছাত্রী-শিক্ষক অনৈতিক সম্পর্ক, যৌন হয়রানি, এক্সট্রা ক্লাস বা কোচিংয়ের জন্য চাপ দেওয়া, পরিক্ষায় পক্ষপাতমুলক নাম্বার প্রদান করা, কারণে-অকারণে শিক্ষার্থীদের সাথে অশোভন আচরণ শিক্ষকদের নৈতিক মান কমাচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের কাছে অনেকটাই প্রতীয়মান হচ্ছে। ফলে অন্তর থেকে শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের যে শ্রদ্ধা বা সম্মান আসবে তা অনেকাংশে কমে যাচ্ছে। দিনশেষে কিছু শিক্ষকের জন্য পুরা শিক্ষক সমাজের মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আর যা ঘটছে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে একেবারে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। 

উপরোক্ত বিষয়গুলোর বাইরেও না বললে নয়, শিক্ষকতা ধীরে ধীরে ‘চাকরি’ হয়ে উঠছে। বিষয়টি এখন আর কেবল আবেগের নয়। এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীর শেখার ফল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা। আসলে ‘চাকরি’ শব্দটির মধ্যে কোনো নেতিবাচকতা নেই। শিক্ষকও একজন পেশাজীবী। তাঁর ন্যায্য বেতন, ছুটি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, পদোন্নতি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাওয়ার অধিকার আছে। সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন শিক্ষকতার মূল্যায়ন শুধু উপস্থিতি, ক্লাস নেওয়া এবং দায়িত্ব পালনের তালিকায় সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। আর শিক্ষার্থীর শেখা, দক্ষতা ও মানসিক বিকাশ অনেকটায় গৌণ হয়ে পড়ে।

শিক্ষকতা যদি সত্যিই ধীরে ধীরে চাকরিতে পরিণত হয়, তাহলে তার কিছু দৃশ্যমান ও মাপযোগ্য পরিণতি থাকার কথা। সেগুলোই বরং দেখা দরকার। ক্লাস হচ্ছে, কিন্তু শেখা হচ্ছে না। এমনটাই আসল কথা। শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন, সিলেবাসও শেষ করছেন। কিন্তু কতটুকু শিখতে পারছে একজন শিক্ষার্থী? এ বিষয়টি প্রতীয়মান যে, শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু ক্লাসে উপস্থিত থাকা বা ক্লাস নেওয়া নয়; শিক্ষার্থীরা কী শিখল, কোথায় আটকে গেল এবং কীভাবে সেই ঘাটতি পূরণ করা যায় সেদিকেও নজর রাখা।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটা বিষয় নিয়ে কথা না বললেই নয়। দেশের সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষক মূল্যয়ন বা রেটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষক সমাজ থেকে শুরু করে প্রশাসন বা সর্বস্তরে আলোচনা বা সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। কিন্ত প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এ রেটিংয়ের বিষয়টি শিক্ষার্থীরা সামনে নিয়ে আসলেন? আমি মনে করি, প্রশ্নের উত্তর একেবারেই লাউড এন্ড ক্লিয়ারের মতো বিষয়। হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকেরা ক্লাস-পরীক্ষায় মনোনিবেশ করেন না, বা ঠিকমতো ক্লাসে উপস্থিত হন না, বা ক্লাসে একতরফা লেকচার দিয়ে চলে যান, বা পরীক্ষায় মূল্যয়নের ক্ষেত্রে নাম্বার টেম্পারিং করেন, বা পক্ষপাতমূলক নাম্বার দেন। দিনশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরি একটা বড় অংশ শিক্ষককের ভাল রেটিং আসে নাই। কিন্তু দেখা যাবে সে শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দক্ষতা পালন, গবেষণা বা অন্য বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিসহ সারাদেশে পরিচয়বহুল একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তার মানে হলো, ঐ শিক্ষক শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিয়ে তার চাকরিকাল অতিবাহিত করছেন। 

তাছাড়া, এমনও শিক্ষক দেখেছি, যুগের পর যুগ ধরে ছাত্র জীবনের ক্লাস নোট আর ক্যারিয়ার শুরুর জীবনের এক স্লাইড দিয়ে শিক্ষকতা চালিয়ে নিচ্ছেন। ১০/১৫ বছর পরিবর্তন হলে সময়ের সাথে সাথে আর সেই স্লাইড আর পরিবর্তন, পরিমার্জন বা পরিবর্ধন হয় নি। তাছাড়া খাতা মূল্যয়নেরও সেই রেখা না পেলে যেন নাম্বারের আকাল সৃষ্টি হয়ে যায়। শুরু হয় একটা মুখস্থ বিদ্যার মতো একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়, চাকরির পরীক্ষা কিংবা কর্মক্ষেত্রে। কারণ সেখানে মুখস্থ তথ্যের চেয়ে বিশ্লেষণ, সমস্যা সমাধান ও যোগাযোগ দক্ষতার প্রয়োজন বেশি। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় জ্ঞান উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দু। নতুন নতুন গবেষণায় নেতৃত্ব দিবে এ বিশ্ববিদ্যালয়। এমনকি সেই সুযোগ বা পরিবেশও তৈরি করে দেওয়া হয় না। শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ, দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ সেই অনুপাতে হয় না, যা তার বাস্তব জীবনে প্রয়োজন। এর দায়ভার কিন্তু শিক্ষক সমাজ কোনভাবেই এড়িয়ে যেতে পারেন না। 

আমি দেখেছি, আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে, একজন শিক্ষার্থী ছাত্র জীবনে সফলতার সাথে উর্ত্তীর্ণ হয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষক হচ্ছেন। কিন্তু সে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হবার পর সময়োপযোগী কোন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা বা পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির তেমন কোন পদক্ষেপ নেই। ফলে একজন শিক্ষক যদি বছরের পর বছর কোনো প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, গবেষণা বা সহকর্মীভিত্তিক পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির কোন প্রশিক্ষণে অংশ না নেন, তাহলে তাঁর শিক্ষাদান পদ্ধতি অপরিবর্তিত থাকার ঝুঁকি থাকে। শুধু প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়াই যথেষ্ট নয়। প্রশিক্ষণের পর শ্রেণিকক্ষে কী পরিবর্তন এসেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে একজন শিক্ষক বছরে কত ঘণ্টা পেশাগত প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, নতুন কতটি পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন, প্রশিক্ষণের আগে ও পরে শিক্ষার্থীর নির্দিষ্ট দক্ষতায় কতটা পরিবর্তন এসেছে এবং তিনি কতটি নতুন শিক্ষাসামগ্রী বা পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করেছেন এসব দিয়ে শিক্ষক উন্নয়নকে আরও অর্থবহভাবে দেখা যায়। অর্থাৎ শিক্ষক উন্নয়নকে শুধু ‘প্রশিক্ষণে উপস্থিতি’ দিয়ে নয়, ‘প্রশিক্ষণের ফল শ্রেণিকক্ষে কতটা দেখা যাচ্ছে’ তা দিয়ে মাপতে হবে।

এর বাইরে আরেকটা বিষয় না বললেই নয়, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সঠিক মানদন্ড না রেখে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পান। এতে শিক্ষাপ্রকিষ্ঠানে অনেকে একরোখা হয়ে উঠেন। যার প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের উপরে পড়ে। এর বাইরে শিক্ষক রাজনীতির একটা প্রভাব তো আছেই। ক্লাস-পরীক্ষা বাদ দিয়ে শিক্ষক রাজনীতি, পদ-পদবী নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন। দিনশেষে দেখা যায় ঐ শিক্ষকের নির্ধারিত সিলেবাস শেষ হয় না বা গড়িমসি করে কোনরকমে সিলেবাস শেষ করে দেন। 

আর এর বাইরে শিক্ষক রাজনীতি করা শিক্ষকবৃন্দের গবেষণার হালচাল আর নাই বলি। শিক্ষক রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত শিক্ষকদের গবেষণার প্রোফাইলে উল্লেখ করার মতো আসলে কিছুই মিলে না। বছরশেষে পদোন্নতি পাবার জন্য যতটুকু দরকার ততটুকু দায়সারা কাজ সেরে শিক্ষক রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষকতা নামক চাকরি করে আসছেন। 

আর এসব কারণেই শিক্ষক সমাজের বদনাম হচ্ছে। তবে এর পেছনে কিন্তু পুরা শিক্ষক সমাজ দোষী নন, কিছু সংখ্যক শিক্ষকের জন্য পুরা শিক্ষক সমাজের আজ সম্মান হানী হচ্ছে। শিক্ষা গুরুর মর্যাদা কবিতার মতো অভিভাবকেরাও এখন শিক্ষকের সম্মান বা মর্যাদা দিতে শেখায় না। বরং আদুরে সন্তানকে শিক্ষক কিছু বললে, শাসন করলে উল্টা শিক্ষককে শাসানো হয়। এমনকি মারধরের ঘটনায় ঘটেছে বহুবার। 

একজন শিক্ষককে সম্মান করার সবচেয়ে বড় উপায় হয়তো তাঁর হাতে ফুল তুলে দেওয়া নয়; বরং তাঁর পেশাগত স্বাধীনতাকে সম্মান করা, তাঁর কাজের যথাযথ মূল্য দেওয়া এবং তাঁকে এমন পরিবেশ দেওয়া যেখানে তিনি মন দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করতে পারেন।

আমরা প্রায়ই বলি, শিক্ষকরাই জাতির মেরুদণ্ড। কথাটি শুনতে চমৎকার। কিন্তু মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী রাখার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজ কী করছে? সেটিও ভাবতে হবে। একজন শিক্ষক যদি পেশাগত অনিশ্চয়তা, আর্থিক চাপ, অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং সামাজিক অবমূল্যায়নের মধ্যে থাকেন, তাহলে তাঁর কাছ থেকে আমরা সর্বোচ্চ মানের শিক্ষা কীভাবে আশা করি। শিক্ষকের কাজ মূলত শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের শেখানো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন শিক্ষককে অনেক সময় পাঠদানের বাইরেও নানা দায়িত্ব পালন করতে হয়। প্রশাসনিক কাজ, বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ, প্রতিবেদন তৈরি, নানা ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সব মিলিয়ে তাঁর মূল কাজের জন্য সময় ও মানসিক শক্তি কমে যায়। ফলে প্রশ্ন ওঠে, আমরা কি শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষকতাই চাই, নাকি তাঁকে একসঙ্গে আরও অনেক ভূমিকা পালন করতে বাধ্য করছি?

এর বাইরে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান, তাঁর ন্যায্য বেতন, ছুটি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, পদোন্নতি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু তা কি সরকার থেকে যথাযথভাবে দেওয়া হচ্ছে? তাছাড়া এসব দাবিতে শিক্ষক সমাজকে রাস্তায় নামতে হয়। অনশন করতে হয়। পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। দাবির আদায়ের আন্দোলনে লাঠিচার্জ করা হয়। পিটিয়ে আহত করা হয়। তারপরও দাবি আদায়ের বেলায় পরিপূর্ণ সুযোগ সুবিধা তাদেরকে দেওয়া হয়না। ২০২৪ সালের আগস্টের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষককে অপমান, শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি এবং জোর করে পদত্যাগ করানোর ঘটনা ঘটেছে, এমনকি অনেক শিক্ষক হামলা-মামলারও শিকার হয়েছেন। এছাড়া, ‘এলায়েন্স অফ ডিপ্রাইভ ইনস্টিটিউশন হেডস ও টিচার্স’ এর প্রতিবেদন অনুসারে, সারাদেশে প্রায় ৩,৫০০ শিক্ষক এবং প্রায় ২,০০০ প্রতিষ্ঠান হয়রানির শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৫০০-এর বেশি শিক্ষক আহত বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। 

তাহলে আসলে পরিবর্তনটা কোথায় দরকার? শিক্ষকতা যেন শুধু ‘চাকরি’ না হয়, সে জন্য শুধু শিক্ষকদের নৈতিকতার কথা বললে হবে না। একই সঙ্গে পুরো ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে ভালো শিক্ষকতা করার সুযোগ ও প্রণোদনা; দুটিই থাকে। একজন শিক্ষককে যদি অসংখ্য প্রশাসনিক কাজ দিয়ে বলা হয়, ‘এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীর শেখার মানও বাড়াতে হবে’, তাহলে সেটি বাস্তবসম্মত নয়। আবার শিক্ষককে যদি পর্যাপ্ত সময়, প্রশিক্ষণ, বেতন ও স্বাধীনতা দেওয়ার পরও শিক্ষার্থীর শেখার ফল নিয়ে কোনো জবাবদিহি না থাকে, সেটিও গ্রহণযোগ্য নয়। তাই শিক্ষকতা মূল্যায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

শেষ পর্যন্ত শিক্ষকতার সাফল্যের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি শিক্ষক কত ঘণ্টা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন তা নয়; শিক্ষার্থী তাঁর কাছ থেকে কী শিখল এবং সেই শেখা তার পরবর্তী জীবনে কতটা কাজে লাগল, সেটিই হওয়া উচিত। শিক্ষককে তাই শুধু কর্মচারী বানানো যাবে না, আবার জবাবদিহির ঊর্ধ্বেও রাখা যাবে না। প্রয়োজন এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে অধিকার হবে সুরক্ষিত, দায়িত্ব হবে স্পষ্ট, মূল্যায়ন হবে মাপযোগ্য এবং সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দু হবে শিক্ষার্থীর শেখা। কারণ শিক্ষকতা শেষ পর্যন্ত শুধু একটি ক্লাস নেওয়ার কাজ নয়। এটি এমন এক দায়িত্ব ও মহান পেশা, যার প্রকৃত ফল প্রকাশ পায় বহু বছর পরে একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা, চরিত্র, আত্মবিশ্বাস এবং সমাজে তার অবদানের মধ্য দিয়ে।

লেখক: নাজমুল হুদা, সাবেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মার্কেট-দোকানপাট খোলা রাখার সময় বাড়াল সরকার

দুর্গাপূজা মার্কেট-দোকানপাট খোলা রাখার সময় বাড়াল সরকার

দুর্গাপূজার ছুটি নিয়ে চাকরিজীবীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

দুর্গাপূজার ছুটি নিয়ে চাকরিজীবীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

শিক্ষকতা: পেশার আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে মহত্ত্ব

বিশ্ব শিক্ষক দিবস শিক্ষকতা: পেশার আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে মহত্ত্ব

সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে ৬ জনকে অচেতন করে চুরি

সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে ৬ জনকে অচেতন করে চুরি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App