×

বরিশাল

স্কুলে যেতে পাঁচ খাল সাঁতরাতে হয় শিক্ষার্থীদের

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

স্কুলে যেতে পাঁচ খাল সাঁতরাতে হয় শিক্ষার্থীদের

ছবি : সংগৃহীত

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার দুর্গম চরকারফারমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে প্রতিদিন পাঁচটি খাল সাঁতরে পার হতে হয় শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোনো সড়ক না থাকায় শীত, বর্ষা কিংবা বসন্ত সারা বছরই এমন ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের।

দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. জহিরুল ইসলাম জানায়, বাড়ি থেকে স্কুলে আসতে পাঁচটি খাল সাঁতরে পার হতে হয়। প্রতিদিন তার মতো আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী খাল সাঁতরে বিদ্যালয়ে আসে। বৃষ্টি বেশি হলে বই-খাতা ভিজে যায়। তখন কয়েক দিন স্কুলে আসাও সম্ভব হয় না।

প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন জানায়, তাদের একটি নৌকা থাকলেও সেটি তার বাবা মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করেন। ফলে বাধ্য হয়ে খাল সাঁতরে স্কুলে যেতে হয়। বৃষ্টি ও খালের পানিতে ভিজে বিদ্যালয়ে আসায় অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। এতে স্কুলে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও কয়েক দিন বাড়িতে থাকতে হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরকারফারমা সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি দুর্গম এলাকা। আগুনমুখা মোহনার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি গড়ে ওঠা এই দ্বীপের দক্ষিণে ম্যানগ্রোভ বন, পশ্চিমে রামনাবাদ নদী, পূর্বে তেঁতুলিয়া নদী এবং উত্তরে আগুনমুখা মোহনা।

দ্বীপটি প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর হলেও যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। সেখানে কোনো সড়ক নেই। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানিতে স্কুল মাঠসহ বিভিন্ন এলাকা ডুবে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

চরকারফারমায় বসবাসকারী ৮০টি জেলে ও কৃষক পরিবারের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় চরকারফারমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৫১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে ২৬ জন ছাত্র ও ২৫ জন ছাত্রী। পাঠদানে রয়েছেন তিনজন শিক্ষক।

বিদ্যালয়ে যেতে হলে গলাচিপা সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দক্ষিণে সদর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া স্লুইসগেটে যেতে হয়। সেখান থেকে আরও প্রায় আধা কিলোমিটার হেঁটে আগুনমুখা নদীর তীরে খেয়াঘাটে পৌঁছাতে হয়।

কারফারমা দ্বীপে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম খেয়া। উত্তাল আগুনমুখা নদী পার হয়ে দ্বীপে পৌঁছানোর পরও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ শেষ হয় না। বিদ্যালয়ে যেতে তাদের অন্তত পাঁচটি খাল পার হতে হয়। এসব খালের ওপর কোনো সেতু বা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নেই।

স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগব্যবস্থার এমন দুরবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলবিমুখতা তৈরি হচ্ছে। বর্ষাকালে খালের পানি বেড়ে গেলে বিদ্যালয়ে যাতায়াত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভিজে বই-খাতা নষ্ট হওয়া এবং পানিতে ভিজে অসুস্থ হয়ে পড়াও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সমস্যা।

বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শাহিদা বেগম বলেন, চরে প্রায় ৮০টি পরিবার বসবাস করে। তিনি জায়গা দিয়ে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু নিজের সামর্থ্য না থাকায় বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করতে পারেননি। শিশুদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য দ্রুত রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা নেই—এটি সত্য। বর্তমানে এ জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে রাস্তা নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর বলেন, রাস্তা না থাকায় বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী কমে গেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, সামনে বরাদ্দ পাওয়া গেলে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের উপযোগী একটি রাস্তা নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।

দুর্গম চরকারফারমার শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরাপদ সড়ক ও পারাপারের ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

নিহত বেড়ে ১৮০, নিখোঁজ ১৫০০

নেপালে ভয়াবহ বন্যা নিহত বেড়ে ১৮০, নিখোঁজ ১৫০০

মক্কা চুক্তিতে কী আছে, বাংলাদেশের আগ্রহের কারণ কী?

মক্কা চুক্তিতে কী আছে, বাংলাদেশের আগ্রহের কারণ কী?

সীমান্তে এআইয়ে শনাক্ত হলো খণ্ডিত বিলাসবহুল গাড়ি

সীমান্তে এআইয়ে শনাক্ত হলো খণ্ডিত বিলাসবহুল গাড়ি

যেসব মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

যেসব মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App