নেপালে ভয়াবহ বন্যা
নিহত বেড়ে ১৮০, নিখোঁজ ১৫০০
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি এবং নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রাসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় দুর্যোগে এ পর্যন্ত প্রায় ১৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে নেপালের পর্যটন কর্মকর্তা ও পুলিশের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি পর্যটক বলে জানা গেছে।
নেপালি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ চিতওয়ান জেলায় এবং আরও ২৬ জনের মরদেহ ইস্ট নওয়ালপরাসি জেলায় উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্যোগে বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নেপালে অন্তত ৫৪ জন মার্কিন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে দেশটি।
একই সঙ্গে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও ত্রাণ সহায়তা দিতে নেপালকে ৫ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ জানিয়েছেন, দেশটির ৩৪ নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকেও ১০৫ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কলকাতার ৩২ জন রয়েছেন।
নেপাল পুলিশের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা গেছে, নদীর প্রবল স্রোতে বাড়িঘর ভেসে যাচ্ছে। এএফপির ছবিতে কাদামাটির নিচে চাপা পড়া একটি বাড়ির শুধু ওপরের অংশ দেখা যায়।
বন্যা ও ভূমিধসে দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নেপাল সেনাবাহিনী দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্যদের মোতায়েন করেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে দুর্গম এলাকাগুলোতেও অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজদের উদ্ধারে ‘সর্বাত্মক’ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নেপাল ও চীনের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ গিরংও এই দুর্যোগের কারণে বিশেষ গুরুত্বের মধ্যে রয়েছে।
