শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারতকে কঠোর বার্তা দিল বিএনপি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৪, ০৩:৪৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করে নতুন এই সরকার। ৪০০ অথিতির উপস্থিতিতে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ নিয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিনিধি শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।
এরপরেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইস্যুতে ভারতকে সতর্ক করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেয়া নিয়ে ভারতের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিএনপি। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেয়া নিয়ে ভারতের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি বিশ্বাস করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকা উচিত। ভারত সরকারকে এ বিষয়টি বুঝতে হবে এবং অনুসরণ করতে হবে। তবে আপনি যদি আমাদের শত্রুকে সাহায্য করেন তাহলে সেই পারস্পরিক সহযোগিতাকে সম্মান করা কঠিন হয়ে পড়ে।’
আরো পড়ুন : জাতিসংঘের সমন্বয়কের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক
তিনি আরো জানান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন নির্বাচনের আগে বলেছিলেন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় ফেরাতে ভারত সাহায্য করবে। শেখ হাসিনার দায়ভার ভারত বহন করছে। ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, ভারত কি একটি দলকে সমর্থন করবে, পুরো দেশকে নয়?’ ওই নেতার এমন মন্তব্য বিএনপিকে ভারতবিরোধী বলেই মনে করছে বিশিষ্ট মহল।
বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ নিয়ে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর বলেন, ‘বিএনপি হিন্দুবিরোধী বলে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে। বিএনপি বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকদের নিয়ে গঠিত এবং সব ধর্মের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। আমি নিজেও এই দলের শাসনকালে একজন মন্ত্রী হয়েছি এবং বর্তমানে বিএনপির সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটিতে স্থান পেয়েছি। বিএনপি সব সম্প্রদায়ের ব্যক্তি অধিকারে বিশ্বাস করে।’
বাংলাদেশ যখন একটি বড় পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন প্রতিবেশী দেশটির ভবিষ্যত এবং দুই দেশের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তা নিয়ে ভারতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনার পদত্যাগের ফলে দুই দেশের সম্পর্কের একটি স্বতন্ত্র পরিবর্তন হতে পারে, অনেকের দাবি এটি ইতিবাচক নাও হতে পারে। শ্রীলঙ্কা ও নেপালে যেমন দেখা যায়, বাংলাদেশ হয়তো চীন ও পশ্চিম বিশ্বকে বেশি অগ্রাধিকার দিতে পারে।
