স্বাস্থ্যমন্ত্রী
৯ তলায় রূপান্তর হবে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সব ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৯ তলা বিশিষ্ট আধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘তিন ধাপে দেশের সব ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।’
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেবল স্বাস্থ্য খাত নয়, বরং স্বাস্থ্য খাতের গোটা পদ্ধতিই পরিবর্তন করে দিচ্ছি। নতুন একটি শৃঙ্খলার মধ্যে চিকিৎসা পদ্ধতিকে আনতে চাচ্ছি। চিকিৎসক সংকট, ওষুধ সংকট ও রোগীদের সেবা সহজীকরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে আমরা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনও ছাড় দেবো না।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া অবহেলিত স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৯ তলা বিশিষ্ট আধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স করা হবে। তিন ধাপে দেশের সব ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।’
আরো পড়ুন: টুঙ্গিপাড়া ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাজধানীতে গ্রেপ্তার
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হাসপাতালের ওষুধ ক্রয়েও দুর্নীতি হয়েছে। মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ওষুধ, অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন, অ্যান্টিভেনমসহ জরুরি ইনজেকশন হাসপাতালের বাইরে বিক্রি করা হতো। রোগীদের ওষুধ দেওয়া হতো না। রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসকরা খারাপ আচরণ করতেন। অনেক জায়গায় চিকিৎসকরা নিয়মিত হাসপাতালে আসতেন না। ডাক্তার নার্সরা রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে এ ধরনের অভিযোগের নোট পেয়েছি।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে ১৫১ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালুর পর এসব হাসপাতালে প্রসূতি নারীদের জন্য ২৫ শয্যার বিশেষ ওয়ার্ড রাখা হবে। শিশুদের জন্য ২০ শয্যার পৃথক ওয়ার্ড রাখা হবে। এই হাসপাতালগুলোতেই কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো সেবা আমরা চালু করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের স্বাস্থ্য খাত ও চিকিৎসা সেবার পদ্ধতিই বদলে যাবে।’
এর আগে, আজ (রোববার) সকালে মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগ, টিকা কার্যক্রম, রান্নাঘর, খাবারের মান, শৌচাগার, স্টোররুম ও পরিচ্ছন্নতা ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স ও অন্য কর্মীদের উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এছাড়া সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে স্বাস্থ্যসেবা ও খাবারের মান সম্পর্কে জানান তিনি। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
