জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
ফাইল ছবি
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) তাকে আদালতে পাঠানোর পর এই রিমান্ডের আবেদন করা হয় বলে জানান বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার। এর আগে মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর।
গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া:
শুক্রবার ভোরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং পরে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করে।
গ্রেপ্তারের আগমুহূর্তে ফেইসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আখতারুজ্জামান দাবি করেন, তিনি জনগণের অধিকার ও প্রবাসীদের জন্য শহীদ হতেও প্রস্তুত আছেন।
আরও পড়ুন: রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে:
গত বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের (বিজি-৩৩৮) ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব এবং ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই ফ্লাইটে জামায়াতের ৩৪ জন প্রতিনিধি সপরিবারে দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরের আগমনী যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপে ট্রলির দীর্ঘ লাইন তৈরি হলে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী নিয়ম ভেঙে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান। নির্বাহী পরিচালক এসে পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করলেও সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান মারমুখী আচরণ শুরু করেন।
মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে:
নির্বাহী পরিচালককে উদ্দেশ করে আখতারুজ্জামান বলেন, "আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা", "গেইট আউট ফ্রম হিয়ার", "ঘাড় ধরে বের করে দিব", "কাজ জানেন না, তদবির করে পোস্টিং এ আসবেন"।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ভিডিও করতে নিষেধ করায় নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়।
অন্যান্য অভিযোগ: মন্ত্রী ও বিমান কর্মকর্তাদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য এবং সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ছুঁড়ে ফেলার অভিযোগও আনা হয়েছে এজাহারে।
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য (যিনি অবসরপ্রাপ্ত মেজর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। এর আগে তিনি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে বিএনপির টিকিটে কটিয়াদী আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
