জবিতে জকসু নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে, সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জকসুর প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং অন্তত ছয়জন সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের আগে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
জকসু সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসনের পরিবর্তে স্থায়ী আবাসিক হল নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবা উন্নয়নসহ কয়েকটি দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এসব দাবি ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে জকসুর প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা ধস্তাধস্তি এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। জকসুর দাবি, এ সময় তাদের প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়।
সংঘর্ষে জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফসহ একাধিক প্রতিনিধি আহত হন বলে জকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অন্তত ছয়জন সাংবাদিকও আহত হয়েছেন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন সুহায়েল আহমেদ, মোহন খন্দকার, জুয়েল মিয়া, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রজব আল ফাহিম ও কামরুজ্জামান কায়েস।
জকসুর এজিএস মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাতে গেলে ছাত্রদল দুই দফায় হামলা চালায়। তার দাবি, এতে ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির এবং জকসুর একাধিক প্রতিনিধি আহত হন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ ফারুকের পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মারুফের অভিযোগ, বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে এবং পুরো ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি। তিনি ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ও সহিংস রাজনীতির অবসান চান বলে মন্তব্য করেন।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদলের কোনো তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সেদিন কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন হোসেন। অনুষ্ঠানস্থলের সামনে স্থায়ী আবাসিক হল নির্মাণসহ বিভিন্ন দাবিতে জকসু, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীরা প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরে দফায় দফায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সংঘর্ষে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্টসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বাকিদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
