কলাবাগানে ছুরিকাঘাতে মা-মেয়েকে হত্যা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর কলাবাগানে ছুরিকাঘাতে মা ও মেয়ে নিহত হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, উভয়ের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় মেয়ের প্রাক্তন স্বামী শিপন। পরে হত্যা পর তিনি তাদের এক বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে কাঁঠালবাগানের আল-আমিন মসজিদ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—ফিরোজা বেগম (৩৫) ও তার মেয়ে ফারজানা আক্তার রাত্রী (২১)। ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে সকাল সোয়া ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, তার মেয়ে ফারজানা আক্তার রাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
আরো পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব নিয়ে পাটোয়ারীর পোস্ট
নিহত ফিরোজা বেগমের স্বামী ফারুক হোসেন বলেন, ‘সকালে তিনি বাসায় ছিলেন না। এ সুযোগে তার মেয়ের ডিভোর্সপ্রাপ্ত স্বামী শিপন বাসায় এসে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার স্ত্রী ও মেয়ের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি আরো বলেন, গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) একটি পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে স্বজনেরা শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের বাদগাঁও গ্রামে যান। বিয়ের আগের দিন সেখানে উপস্থিত হন শিপনও। অনুষ্ঠান চলাকালে সকালে পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে ফারজানার সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে অনুষ্ঠান শেষ না করেই ঢাকায় ফেরেন শিপন।
পরের দিন শনিবার পরিবারের অন্য সদস্যরাও ঢাকার বাসায় ফিরে আসেন। রোববার সকালে শিপন ফের ওই বাসায় এসে হট্টগোল শুরু করেন। নিহতদের স্বজন ফারুকের অভিযোগ, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাশুড়ি ফিরোজা বেগম ও সাবেক স্ত্রী ফারজানাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন শিপন।
ফারুক আরো অভিযোগ করেন, নৃশংস এই হামলার পর ফারজানা ও তাঁর এক বছরের শিশুসন্তান রায়হানকে নিয়ে বের হন শিপন। পরে জানা যায়, রক্তপাত ঘটানোর পর শিশুটিকে নিয়েই চম্পট দিয়েছেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিপনের বাড়ি ও বর্তমান বসবাস রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়।
পরিবার জানায়, তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার বাদগাঁও গ্রামে। বর্তমানে তারা কলাবাগানের কাঁঠালবাগানের আল-আমিন মসজিদ রোড এলাকার ৫২/২ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকতেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, ‘ফিরোজা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ফারজানা আক্তার রাত্রীর মরদেহও আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।’
বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।
