রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব নিয়ে পাটোয়ারীর পোস্ট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০১:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিস্তারিত পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নামে পরিচালিত হলেও, ৫৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন। তাই অনেকেই মনে করেন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু বাস্তবে রাষ্ট্রপতির পদ কেবল আনুষ্ঠানিক নয়, এটি রাষ্ট্রের মর্যাদা, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং জাতীয় ঐক্যের অন্যতম প্রতীক।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই পোস্টটি করেন তিনি।

পোস্টে রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বগুলোর বিবরণ তুলে ধরে পাটোয়ারী লিখেন, রাষ্ট্রপতির প্রধান প্রধান দায়িত্বগুলো হলো—
প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ: সংবিধান অনুযায়ী, যিনি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা অর্জনে সক্ষম তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা।
প্রধান বিচারপতি নিয়োগ: সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেওয়া।
আরো পড়ুন: টানা ৪ দিনের ছুটির অভিনব সুযোগ, যেভাবে পাবেন লম্বা ছুটি
গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় ভূমিকা: নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যসহ (চ্যান্সেলর) বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন।
সংসদ পরিচালনা ও বিল অনুমোদন: জাতীয় সংসদ আহ্বান, মুলতবি ও সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং সংসদে পাস হওয়া বিলে সম্মতি প্রদান।
বিশেষ ক্ষমা ও প্রতিরক্ষা: সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ক্ষমা, দণ্ড লাঘব বা স্থগিত করার ক্ষমতা প্রয়োগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন।
কূটনৈতিক ভূমিকা: বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণ এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিয়োগে আনুষ্ঠানিক ভূমিকা পালন।
পাটোয়ারী উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতির প্রতিটি সিদ্ধান্ত হয়তো তিনি এককভাবে নেন না, তবে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার কেন্দ্রেই রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরো লিখেন, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না; জাতীয় সংসদের সদস্যরা তাকে নির্বাচিত করেন। বাস্তবে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট নিশ্চিত করতে পারে। ফলে নির্বাচনে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকে না এবং রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষমতাসীন দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত রূপ নেয়। এতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনেক সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক না হয়ে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়।
রাষ্ট্রপতির পদটির ভাবমূর্তি ও সংস্কার প্রসঙ্গে পাটোয়ারী বলেন, "রাষ্ট্রপতির পদ কোনো রাজনৈতিক পুরস্কার হওয়া উচিত নয়। এটি এমন একটি পদ, যেখানে দলীয় আনুগত্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত সততা, সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা, নৈতিক সাহস, প্রজ্ঞা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মানসিকতা।"
আরো পড়ুন: রাজধানীতে অপরাধ বিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ৪৩১
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বর্তমান পদ্ধতি সংবিধানসম্মত হলেও, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে সংস্কারের আলোচনা রয়েছে। কেউ সরাসরি জনগণের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পক্ষে মত দেন, আবার কেউ সংসদীয় পদ্ধতি বহাল রেখেই সর্বদলীয় ঐকমত্য, উন্মুক্ত মনোনয়ন বা অধিকতর স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রস্তাব দেন।
সবশেষে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, "বাংলাদেশ কি এমন একজন রাষ্ট্রপতি পাওয়ার যোগ্য নয়, যিনি কেবল একটি দলের প্রতিনিধি নন; বরং পুরো জাতির আস্থার প্রতীক, সংবিধানের নির্ভীক রক্ষক এবং নৈতিক নেতৃত্বের উদাহরণ? রাষ্ট্রপতির পদকে যত বেশি স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ ও সর্বজনগ্রাহ্য করা যাবে, ততই শক্তিশালী হবে বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং গণতান্ত্রিক ভিত্তি।
