পর্নো ভিডিও বানিয়ে ৩৫০০ টাকায় দিতেন ‘লাইফটাইম মেম্বারশিপ’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির অভিযোগে সুমাইয়া সাঈদ (২৫) নামে এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার ও তার প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও মামলার আসামি করা হয়েছে।
মেয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার পরও তিনি এতে বাধা দেননি এবং ওই আয় থেকে অর্থ গ্রহণ করেছেন- এমন অভিযোগ ওঠে।
ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি দল রাজধানীর ভাটারা ও বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
ডিবি সূত্র জানায়, গত ১০ আগস্ট নিয়মিত সাইবার নজরদারির সময় সুমাইয়ার ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে আপত্তিকর কনটেন্ট এবং তা বিক্রির প্রচারণার সন্ধান পায় পুলিশ। চক্রটি বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ নিয়ে গ্রাহকদের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও সরবরাহ করত। গ্রাহক আকৃষ্ট করতে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’ বিক্রির বিজ্ঞাপনও দেওয়া হতো।

আরও পড়ুন: হানিয়া আমিরের ভিডিও ভাইরাল! নেটিজেনদের আলোচনা
ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে অবস্থান শনাক্তের পর ১১ আগস্ট রাতে ভাটারা থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সুমাইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ও একটি ওয়ানপ্লাস স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডা এলাকা থেকে খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।
সুমাইয়া ও তার সহযোগীরা মিলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনা করছিলেন। তদন্তে সুমাইয়ার বাবা মেয়ের এসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত থাকার পরও তা বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেননি এবং ওই আয়ের অর্থ নিয়মিত গ্রহণ করতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান।
এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর আওতায় মামলা করা হয়েছে। চক্রটির মূল নেটওয়ার্ক শনাক্ত এবং পলাতক সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে হাজির করে তিনদিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
