সীতাকুণ্ড
অভিযানের ২০ দিন পর আবারও জমে উঠল জুয়ার আসর
নন্দন রায়, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সীতাকুণ্ডে প্রশাসনের অভিযানের মাত্র ২০ দিনের মাথায় একই স্থানে আবারও জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের চৌধুরীঘাটা এলাকার নাজিয়া রি-রোলিং মিলের পেছনে সোহেল ট্রান্সপোর্টে এ জুয়ার আসর বসছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
গত ১৪ মে ‘সীতাকুণ্ডে জুয়ার আসর কেড়ে নিচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবারের শান্তি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর ওই দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লা আল মামুন এবং থানা পুলিশের সহযোগিতায় সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
অভিযানের সময় পুলিশ জুয়ার আসরটি ভেঙে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে তিন জুয়ারিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাঁদের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন ট্রাকচালক নাজিম উদ্দিন (৪৭), সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. আজম (২৯) এবং জাহাজভাঙা কারখানার ভাঙারি ব্যবসায়ী কামাল হোসেন (৪৭)। পুলিশ সে সময় জুয়ার আসর থেকে নগদ টাকা, একটি স্বর্ণের কানের দুল, একটি শিশুর পায়ের নুপুর এবং মাদক উদ্ধার করে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযানের প্রস্তুতির বিষয়টি সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখে জুয়ার আসরের মূল আয়োজক হিসেবে পরিচিত সোহেল, রমজান ও মালুসহ কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
এদিকে তিন জুয়ারিকে সাজা দেওয়ার প্রায় ২০ দিনের মাথায় গত সোমবার থেকে আবারও একই স্থানে জুয়ার আসর বসতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
কেউ কেউ বলছেন, ট্রান্সপোর্টটি সিলগালা করে বন্ধ না করায় জুয়ারিরা পুনরায় এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চালানোর সাহস পাচ্ছে। আবার অনেকে মনে করছেন, মূল হোতাদের বিরুদ্ধে মামলা না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জুয়ার আসরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে আবারও হতাশা ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের অভিযানের পর স্বস্তি ফিরলেও জুয়ার আসর পুনরায় চালু হওয়ায় সেই উদ্বেগ ফিরে এসেছে।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, “পুনরায় শুরু করলেও কেউ পার পাবে না। জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
