একাধিক পদ শূন্য, শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে মুরাদনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়
রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
ফাইল ছবি
কুমিল্লার মুরাদনগরের ঐতিহ্যবাহী মুরাদনগর ডি.আর. সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে চরম শিক্ষক ও জনবল সংকটে পরিচালিত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, বিজ্ঞান শিক্ষকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ বছরের পর বছর শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। এতে শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, ভৌতবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের কোনো শিক্ষক নেই। এছাড়া গণিত বিষয়ের দুটি পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। ইংরেজি ও ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়েও দুটি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন একজন করে শিক্ষক।
শুধু শিক্ষক সংকটই নয়, বিদ্যালয়টিতে অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, পিয়ন, ঝাড়ুদার ও নাইট গার্ডের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থার। অস্থায়ীভাবে কিছু কর্মচারীর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষের জানালার থাই গ্লাসসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো ও সম্পদ রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের ভাষ্য, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে প্রাইভেট কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের ফলাফল ও শিক্ষার সামগ্রিক মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ময়নাল হোসেন সরকার বলেন, শিক্ষক ও জনবল সংকটের বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার মান ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক ও জনবলের সংকট রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) কুমিল্লা অঞ্চলের আঞ্চলিক উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অফিসিয়ালভাবে আবেদন করলে বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে সুপারিশ করা হবে, যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদায়নের ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, একটি সরকারি বিদ্যালয়ে বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত প্রধান শিক্ষকসহ শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ না দিলে বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ আরও অবনতির দিকে যাবে এবং ভবিষ্যতে অভিভাবকরা সন্তানদের এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে অনাগ্রহী হয়ে পড়বেন।
তাদের প্রশ্ন, ঐতিহ্যবাহী মুরাদনগর ডি.আর. সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষক নিয়োগ আর কতদিনে হবে? এখন সেই উত্তরই খুঁজছেন মুরাদনগরবাসী।
