তিন সন্তান রেখে ইমামের সঙ্গে উধাও কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীর চাটখিলে তিন সন্তানকে রেখে এক কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী স্থানীয় এক মসজিদের ইমামের সঙ্গে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার (৩ জুলাই) অভিযুক্ত নারীর মা নাজমা আক্তার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে চাটখিল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে স্থানীয় মসজিদের ইমাম রিয়াজ হোসেন, তার মেয়ে নিশাত আক্তার এবং রিয়াজের বাবা খোরশেদ আলম ও মা কুলসুম আক্তারকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ জুন নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার হাটপুকুরিয়া-ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে নিশাত আক্তার নিখোঁজ হন।
অভিযুক্ত রিয়াজ হোসেন (২৬) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে নিশাত আক্তার (৩০) উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় অবস্থান করছেন।
পরিবারের অভিযোগ, স্বামী বিদেশে থাকায় নিশাত দীর্ঘদিন ধরে তিন সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এ সময় বাড়ির পাশের একটি মসজিদের ইমাম রিয়াজ হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ২৭ জুন দুপুরে তারা পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে চলে যান। যাওয়ার আগে নিশাত তার তিন সন্তানকে পরিবারের কাছে রেখে যান।
নিশাতের মা নাজমা আক্তারের দাবি, মেয়ে বাড়ি ছাড়ার সময় নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ছয়টি সোনার আংটি, পাঁচটি স্বর্ণের চেইন, দুটি ব্রেসলেট এবং ১৪ জোড়া কানের দুলসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার সঙ্গে নিয়ে গেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও নিশাত স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে টেলিভিশন, হাঁড়ি-পাতিল, বিদেশি কম্বল, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস এবং প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি স্কুটিসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পরে নিশাতের শয়নকক্ষ তল্লাশি করে রিয়াজ হোসেন ও নিশাত আক্তারের নামে একটি যৌথ হলফনামা ও এফিডেভিট উদ্ধার করা হয়। ওই নথিতে উল্লেখ রয়েছে, তারা গত ৪ মে পূর্বের কাবিননামা বাতিল করে নতুন কাবিননামার মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। পরিবারের দাবি, বিয়ের পরও নিশাত বাবার বাড়িতে অবস্থান করে পরিকল্পিতভাবে অর্থ ও সম্পদ নিয়ে চলে গেছেন।
এ বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ভুক্তভোগীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
