মেঘনায় গৃহবধূ মীম হত্যার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ব্রাহ্মণচর নওগাঁও গ্রামের গৃহবধূ মীম আক্তার (১৯) হত্যার প্রতিবাদ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিহত নারী বাবুল মিয়া ও সুমি আক্তার দম্পতির মেয়ে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মেঘনা থানা চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। এ সময় এক বিক্ষোভকারী এক পুলিশ সদস্যকে কলার ধরে টানতে দেখা যায়। পরে অন্যরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মো. সিয়ামের সঙ্গে। ঘটনার দিন ভোরে সিয়াম তাঁর শাশুড়িকে ফোন করে জানান, ঘুম থেকে উঠে তিনি মীমকে খুঁজে পাচ্ছেন না। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানতে পারেন, উপজেলার কদমতলা এলাকার মহাসড়কে মীমের মরদেহ পড়ে রয়েছে।
নিহতের মা সুমি আক্তার বলেন, গত ১ জুলাই বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মেয়েকে ফোন করেছিলেন। তখন মীম পরে কথা বলবেন বলে জানান। এরপর বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টার দিকে তাঁর জামাই ফোন করে জানতে চান, মীম তাঁদের বাড়িতে গেছেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘সে এখানে কেন আসবে, সে তো আপনাদের বাড়িতেই থাকার কথা। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে মেয়েকে হত্যা করে মহাসড়কে ফেলে রাখা হয়েছে। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, গত ২ জুলাই ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ কদমতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মীমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এছাড়া নিহতের পরিবার আদালতে মামলা করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, মীমের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
