ফিফা সভাপতি-রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় নোয়াখালীর তরুণ
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফুটবলের একটি ম্যাচে নিজের প্রিয় দল মিসরের পরাজয় এবং রেফারিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ এনে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের বিরুদ্ধে নোয়াখালীতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক তরুণ। অভিযোগে তিনি ম্যাচে পূর্বপরিকল্পিত জালিয়াতি ও পক্ষপাতিত্বের দাবি তুলে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. রাকিব (২২) সুধারাম থানায় এই অভিযোগ দাখিল করেন। তার বাবার নাম মো. সিরাজ।
লিখিত অভিযোগে রাকিব নিজেকে একজন সাধারণ ও আইন মান্যকারী ফুটবল সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানান। তিনি অভিযোগে ফিফা সভাপতি ও ম্যাচ রেফারিসহ আরও ১৫-২০ জনকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে স্থানীয় করমুল্যা বাজারে রুপালী পর্দায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মিসর ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচ উপভোগ করছিলেন তিনি ও এলাকার অন্যান্য ক্রীড়ামোদীরা। ম্যাচের শুরু থেকেই রেফারি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাকিবের দাবি, ম্যাচের ১৪তম মিনিটে মিসর একটি গোল করার পর রেফারি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ৫ মিনিট পর আর্জেন্টিনাকে একটি ‘অন্যায্য’ পেনাল্টি দেন। পরে ২৫তম মিনিটে মিসরের আরেকটি বৈধ গোল প্রথমে স্বীকৃতি দিলেও ৩ মিনিট পর তা বাতিল করা হয়, যা রহস্যজনক বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া ম্যাচের শেষভাগে মিসরের খেলোয়াড়দের ওপর একের পর এক হলুদ কার্ড এবং কোচকে লাল কার্ড দেখিয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এতে দলটির মনোবল ভেঙে পড়ে এবং প্রতিপক্ষের জয়ের পথ সুগম হয় বলে অভিযোগে বলা হয়।
রাকিব দাবি করেন, এই ঘটনার ফলে তিনি এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মিসর সমর্থক মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই ফিফার কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিচার দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে রাকিব বলেন, এই ম্যাচ দেখার পর আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। এমন অন্যায়ের বিচার হওয়া প্রয়োজন। তাই থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
তবে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, তরুণটি থানায় এসেছিলেন। তবে এই ধরনের অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণের সুযোগ নেই। বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর তিনি চলে যান। পরে রাকিব জানান, তিনি একই অভিযোগ নিয়ে আদালতে যাবেন এবং প্রয়োজনে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন।
