সিংগাইরে অটোরিকশাচালক সাবিকুল হত্যার রহস্য উদঘাটন
মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ)
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ১৬ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক সাবিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া স্যান্ডেলের সূত্র ধরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসাদুজ্জামান (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টায় মানিকগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী।
গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়াই নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর মাদ্রাসা গেট এলাকায় থাকতেন এবং সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি তিন সন্তানের জনক।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩০ জুন বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কিশোর সাবিকুল ইসলাম। পরদিন ১ জুলাই সিংগাইরের একটি পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে পিবিআই মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই শেষে বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণে পিবিআই জানায়, গত ৩০ জুন আসাদুজ্জামান হেমায়েতপুর থেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে মানিকগঞ্জ সদরের মিতরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর তিনি সাবিকুলের অটোরিকশায় ওঠেন। পথিমধ্যে ভাঙা সড়কে চলাচলের সময় অটোরিকশার ঝাঁকুনিকে কেন্দ্র করে চালক সাবিকুলের সঙ্গে আসাদুজ্জামানের তীব্র তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে তারা রাস্তার পাশের একটি পাটক্ষেতে গিয়ে মারামারিতে লিপ্ত হন। সেখানে আসাদুজ্জামান কিশোর সাবিকুলকে মারধর করে তার মুখ কাদায় চেপে ধরেন এবং ঘাড়ে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে শ্বাসরোধে ঘটনাস্থলেই সাবিকুলের মৃত্যু হয়।
ছবি: নিহত সাকিবুল।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের পর আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে পালানোর সময় তার একটি স্যান্ডেল ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে, যা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জব্দ করে পিবিআই। এছাড়া নিহতের অটোরিকশাটি সিংগাইর থানা পুলিশ আগেই জব্দ করেছিলো।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলে আসামির ফেলে যাওয়া স্যান্ডেল এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদুজ্জামান হত্যার দায় স্বীকার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হবে।’
মামলার তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
