নদীভাঙনে গাইবান্ধায় বাড়ছে দুর্ভোগ, বিলীন ২০০ বাড়ি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধায় করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও জেলার সব নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি ওঠানামার কারণে গত এক মাস ধরে জেলার বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে এবং ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা শতাধিক পরিবার নিরাপদ স্থানে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করতোয়া নদীর পানি ৭৩ সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর পানি যথাক্রমে ২ ও ৯ সেন্টিমিটার কমেছে। চারটি নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ, সদর ও সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে বসতভিটা হারিয়েছে, আর নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কায় অনেকে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
ফুলছড়ি উপজেলার দক্ষিণ রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত দুই সপ্তাহ ধরে সেখানে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে গাছপালা, বাঁশঝাড় ও প্রায় ৩০ বিঘা কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, ভাঙন প্রতিরোধে জেলার ১০ থেকে ১২টি পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য এলাকাতেও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।
