চকরিয়া-মাতামুহুরীতে বন্যার তাণ্ডব, ভেসে গেল ১,৭৮০ পুকুর-ঘের
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
টানা নয় দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার মৎস্য খাত ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে। কয়েক দিনের বন্যায় দুই উপজেলার অসংখ্য পুকুর ও ঘের পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছ, চিংড়ি ও পোনা। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মাছচাষিরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি দুই উপজেলায় মাছ উৎপাদনেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বন্যার কারণে চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় মোট ১ হাজার ৭৮০টি পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ের মোট আয়তন ৫৬১ একর। এতে অসংখ্য মৎস্যচাষি সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সব মিলিয়ে দুই উপজেলার মৎস্য খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।
মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, চকরিয়া উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। সেখানে ৯৫০টি পুকুর ও ৩০ একর জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ১৭৮ মেট্রিক টন মাছ এবং ১১ মেট্রিক টন চিংড়ি। অন্যদিকে মাতামুহুরী উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। সেখানে ৭৫০টি পুকুর ও ৫০ একর জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে ১৩০ মেট্রিক টন মাছ এবং ২৩ মেট্রিক টন চিংড়ি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বন্যায় কোনো মৎস্যচাষির প্রাণহানি বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দুই উপজেলার শত শত মাছচাষি নতুন করে উৎপাদন শুরু করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
মাতামুহুরী উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের মৎস্যচাষি তৌফিক হোসনে বলেন, অধিকাংশ পুকুরের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় মাছ পানির সঙ্গে বেরিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পুকুর কাদায় ভরে গেছে। আবার অনেক জায়গায় পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে নতুন করে পোনা ছাড়াও সম্ভব হচ্ছে না। যেসব চাষি ব্যাংক বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নের মৎস্যচাষি মহিউদ্দিন পুতু বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দ্রুত পুনর্বাসন, বিনামূল্যে বা ভর্তুকি মূল্যে পোনা ও মাছের খাদ্য বিতরণ, স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর ও ঘের পুনঃসংস্কারে সরকারি সহায়তা জরুরি। অন্যথায় চলতি বছরের এই ক্ষতির প্রভাব আগামী মৌসুমের মাছ উৎপাদনেও পড়বে। এতে স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহ এবং দুই উপজেলার সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল আমিন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের জন্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সরকারি সহায়তা দ্রুত বিতরণ করা হবে।
