সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ : প্রধানমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের নাগরিকদের জন্য সরকারের সব কল্যাণমূলক সেবা ও সুবিধা একটি কার্ডের আওতায় আনতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরনের সরকারি কার্ড একীভূত করে একটি সর্বজনীন কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয়ের ভিত্তিতে সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বর্তমানে চালু থাকা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় নেতাদের জন্য দেওয়া বিশেষ কার্ডের সুবিধাগুলো ভবিষ্যতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’-এর মাধ্যমে সমন্বিতভাবে দেওয়া হবে।
তিনি জানান, সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং এসব উদ্যোগকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করতেই এই নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বক্তব্যে কৃষি খাতের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ থাকা প্রান্তিক কৃষকদের ঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক এ সুবিধা পেয়েছেন বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন: হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের নির্দেশ
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে ইতিবাচক ঐকমত্য তৈরি হওয়া দেশের জন্য আশাব্যঞ্জক। জনগণের কল্যাণে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছে। দুর্নীতি দমন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নিরপেক্ষ তালিকা করবে সরকার
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচির কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ জন্য ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
