চট্টগ্রামে এস আলমের সব কারখানা বন্ধ, ৪ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এস আলম গ্রুপের সব শিল্পকারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) থেকে কারখানাগুলোর সব কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ রয়েছে।
কারখানা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কর্মীদের ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ১ আগস্ট থেকে ছাঁটাই কার্যকর হবে। কাঁচামালের সংকট, এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলতে না পারা এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এস আলম সুগারের শিফট ইনচার্জ প্রকৌশলী মো. হাসমত আলী বলেন, গত দুই বছর ধরে কাঁচামালের অভাবে কারখানাটির উৎপাদন কার্যত বন্ধ ছিল। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করে আসছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব না হওয়ায় কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শুধু এস আলম সুগার থেকেই ৩৮৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। তাদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অবসর-সংক্রান্ত সুবিধা পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে। এর আগেও কয়েক দফায় প্রতিষ্ঠানটিতে জনবল কমানো হয়েছিল।
বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে: এস আলম সুগার, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট, এস আলম পাওয়ার জেনারেশন, ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, চেমন ইস্পাত, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস-এনওএফ, এস আলম স্টিল এবং এস আলম ব্যাগ।
শ্রমিকদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিভিন্ন কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাই হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা টানিয়ে দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং জটিলতা, এলসি সংকট এবং কাঁচামাল আমদানিতে বাধার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। মজুত কাঁচামাল দিয়ে সীমিত পরিসরে কিছু কার্যক্রম চললেও এবার সব ধরনের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকায় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
