৯ হাজার মুখোশ ও বিস্ফোরকসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় লালবাগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান ইমনকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-সাউথ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার তদন্তে ওয়ারী বিভাগের পুলিশের সমন্বিত দলের হাতে জাহিদ হাসান ইমনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। পরে শ্যামপুর মডেল থানা-পুলিশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা-পুলিশের সহযোগিতায় ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করে।
উদ্ধারকৃত আলামত
ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ভাড়া বাসা থেকে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে: ককটেল তৈরির উপাদান- কস্টিক সোডা (দেড় কেজি), সালফার (দেড় কেজি), মারবেল (৫ কেজি) ও তারকাঁটা (২ কেজি)।
আরও পড়ুন: শিশুর আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগে কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রী গ্রেপ্তার
অন্যান্য উপকরণ- ককটেল মোড়ানোর লাল ও কালো টেপ, বিচূর্ণ করার কাজে ব্যবহৃত ব্লেন্ডার ও জার।
মুখোশ: অসৎ উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত কাগজের তৈরি ৯ হাজার মুখোশ (৩ কার্টুনে) এবং ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক।
পুলিশের বক্তব্য ও জিজ্ঞাসাবাদ
যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া জানান, উদ্ধার করা মানুষের আকৃতির মুখোশগুলো বিভিন্ন মিছিল বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সময় পরিচয় গোপন রাখতে ব্যবহার করার কথা ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে ইমন স্বীকার করেছেন যে লালবাগের এক নেতার নির্দেশে এবং অজ্ঞাত এক ভ্যানচালকের মাধ্যমে মুখোশগুলো ও বিস্ফোরক তার কাছে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে সেগুলো বিভিন্ন নেতাকর্মীর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে তার বাসায় সংরক্ষণ করা হয়।
সম্প্রতি রাজধানীতে ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণগুলোর সঙ্গে ইমন জড়িত কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম কমিশনার বলেন, তিনি এর সঙ্গে জড়িত এবং নিষিদ্ধ দলের কোনো নেতার নির্দেশেই এসব সামগ্রী তার কাছে আসে। অর্থের লেনদেন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সামনে বড় কোনো নাশকতার শঙ্কা রয়েছে কি না— এমন প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
