যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ৭ দিনের ‘রূপরেখা’ দিল ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নৌঅবরোধ তুলে নিতে ৭ দিনের একটি সুনির্দিষ্ট ‘রোডম্যাপ’ বা পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে ইরান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে এই পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাত ইতিমধ্যে সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে ধস নেমেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
প্রস্তাবের প্রধান শর্তসমূহ
গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্ত বাস্তবায়ন করে বৈরিতার অবসান ঘটানো।
গাজা ও লেবাননসহ সব ফ্রন্টে আগামী সাত দিনের মধ্যে সামরিক সংঘাত সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা, ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ওয়াশিংটনের নৌঅবরোধ তুলে নেওয়া।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ থেকে হলিউড তারকাসহ গ্রেপ্তার শতাধিক
সাত দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার দিনই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া এবং এর পরপরই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করা।
পূর্বের সমঝোতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পাল্টাপাল্টি হামলা ও নথির অস্পষ্টতার কারণে তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে ৭ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করেন। তবে সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের প্রতিশ্রুতিতে ফিরলে তেহরানও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেবে।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তারা ‘গঠনমূলক আলোচনা’ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তড়িঘড়ি করে ওয়াশিংটন কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবটি দুদেশের কূটনৈতিক স্থবিরতা কাটার একটি ইঙ্গিত হলেও মৌলিক জায়গায় এখনো তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাছাড়া, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ বন্ধে বড় কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন জেনেভা গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সাইরাস শায়েগ। তবে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি মন্তব্য করেছেন যে নির্বাচনের আগেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হলে তা সবচেয়ে ভালো হতো।
