ছিনতাইকারীর ধাক্কা, নাকি ভয় পেয়ে লাফ: ইয়ামিনের মৃত্যু নিয়ে দুই বক্তব্য
সৈয়দ মনির আহমদ, ফেনী
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃৃহীত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের ফতেহপুর ফ্লাইওভারে ছিনতাইকারীর হাতে নিহত হয়েছেন ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মোফাদুল ইসলাম ইয়ামিন (২৪)। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোহাম্মদ আলী বাজার থেকে পরীক্ষা দিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ফেনী শহরে আসার পথে এ ঘটনা ঘটে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই মঙ্গলবার দুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
পুলিশের দাবি, সিএনজিতে থাকা লোকদের ছিনতাইকারী ভেবে লাফিয়ে গাড়ির নিচে পড়ে যান নিহত মোফাদুল ইসলাম ইয়ামিন। তিনি ফেনী শহরের ছাড়িপুর চৌধুরী বাড়ির গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
জানা গেছে, ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের ডিটিএনটি বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়ামিন পড়াশোনার পাশাপাশি মোহাম্মদ আলী এলাকার এসএনবি নাইস ফুডে কর্মরত ছিলেন। সোমবার সেখান থেকে ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউটে ফাইনাল পরীক্ষা দিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন তিনি।
পরিবারের দাবি, ফতেহপুর ফ্লাইওভারে পৌঁছালে আগে থেকেই যাত্রীবেশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি ইয়ামিনকে ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে তাঁরা তাঁর হাত ধরে টানাটানি ও ধস্তাধস্তি করেন। পরে তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোন ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ফ্লাইওভারে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় দ্রুতগামী একটি ট্রাক তাঁকে চাপা দেয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়ামিনকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁর ভাই অনিক। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে মীরসরাইয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইয়ামিন গাড়িতে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
প্রত্যক্ষদর্শী কনটেন্ট ক্রিয়েটর আসিফ বলেন, ফতেহপুর ফ্লাইওভারের ওপর তাঁকে পড়ে থাকতে দেখে গাড়ি থামিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে কাভার্ডভ্যানে করে হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। ইয়ামিনের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, সে বলেছে ছিনতাইকারী চক্র তাঁকে সিএনজি থেকে ফেলে দেয়, এরপর দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাঁকে চাপা দেয়।
এ বিষয়ে ফেনী মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে গাড়িচাপায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে তা জেনেছি। কিন্তু ফ্লাইওভারে কীভাবে গাড়ির নিচে পড়লেন, সেটা তদন্ত হচ্ছে। মৃত্যুর পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ধারণা করা হচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় লোকদের ছিনতাইকারী ভেবে লাফিয়ে গাড়ির নিচে পড়ে যান ইয়ামিন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করি শিগগিরই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
