রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ প্রদান, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা বরখাস্ত
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নিবন্ধন সহকারী মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার রাতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, মুরাদনগর উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ প্রদানের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। গত ১২ আগস্ট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদনে তার সংশ্লিষ্টতা সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে সারের সংকট নেই, গুদামে মজুত চাহিদার কয়েক গুণ
আদেশে আরও বলা হয়, ইসমাইল হোসেনের এ কর্মকাণ্ড ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১’ অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল। এ কারণে ওই বিধিমালার ৪০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্তের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ের বিধি অনুযায়ী তিনি খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। একই সঙ্গে বরখাস্তের আদেশটি তার চাকরি বহিতে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগে এর আগে ইসমাইল হোসেনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় তিনি প্রায় সাত মাস কারাগারে ছিলেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিকত্ব ও ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। এসব অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ ছিল বলে জানা গেছে।
তার বরখাস্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন বাসিন্দা।
তবে এসব অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে পৃথক কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ও বরখাস্তের বিষয়ে মো. ইসমাইল হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
