রাজশাহীতে সারের সংকট নেই, গুদামে মজুত চাহিদার কয়েক গুণ
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীতে সারের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছেন বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী। তাঁর ভাষ্য, কৃষকদের চাহিদা মেটাতে সরকারি গুদামগুলোতে পর্যাপ্ত ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। জেলার মাসিক চাহিদার তুলনায় কোনো কোনো সারের মজুত কয়েক গুণ বেশি বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী নগরের নওদাপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার গুদাম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার। আসন্ন আমন ও বোরো মৌসুম সামনে রেখে সারের মজুত পরিস্থিতি দেখতে তিনি গুদাম পরিদর্শন করেন।
ইউসুফ আলী জানান, বিসিআইসির বাফার গুদামে বর্তমানে ৯ হাজার ৮০৪ টন ইউরিয়া, ৪৩০ টন টিএসপি ও ৮৫ দশমিক ৫ টন ডিএপি সার রয়েছে। আর বিএডিসির গুদামে মজুত আছে ৬ হাজার ৩১২ টন টিএসপি, ৮০১ টন এমওপি ও ৪ হাজার ৩৪৮ টন ডিএপি।

বিভাগীয় কমিশনারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে রাজশেলায় টিএসপি সারের বরাদ্দ ১ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে গুদামে মজুত রয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। একইভাবে চলতি মাসে জেলার জন্য ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ৫ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। অথচ একটি গুদামেই প্রায় ১০ হাজার টন ইউরিয়া মজুত রয়েছে।
ইউসুফ আলী বলেন, ‘সারের কোনো ক্রাইসিস নেই। গুদামে পর্যাপ্ত সার আছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অনুযায়ী নিয়মিতভাবে ডিলারদের কাছে সার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং তাঁরা দোকানে বিক্রি করছেন।’
তবে সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত সার থাকার দাবি থাকলেও মাঠপর্যায়ে সার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে সোমবার রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজারে সার সরবরাহের দাবিতে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। পরে প্রায় ১৫০ কৃষক ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন।
কৃষকদের অভিযোগ, আমন মৌসুমে জমিতে সার প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। ডিলারের দোকানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সার না পাওয়ার অভিযোগ করেন কেউ কেউ। এ ছাড়া কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও তোলেন তাঁরা।
প্রায় ৪০ মিনিট মহাসড়ক অবরোধের পর পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে কৃষকেরা অবরোধ তুলে নেন। ওই ঘটনায় সার ডিলার ওছমান আলী কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, ইউরিয়ার সংকট নেই এবং নিয়ম অনুযায়ী কৃষকদের সার দেওয়া হচ্ছে।
পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, বানেশ্বরের ডিলারদের কাছ থেকে আশপাশের এলাকার কৃষকেরাও সার সংগ্রহ করছেন। এতে স্থানীয় কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার নিয়ে চাপ তৈরি হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে সার বিক্রি এবং ডিলারের দোকানে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করার কথা জানানো হয়।
সারের সংকট নিয়ে এমন অভিযোগের মধ্যে মঙ্গলবার সরকারি গুদামের মজুত পরিস্থিতি তুলে ধরে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বাইরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গুদামে সারের মজুত সবার সামনেই দৃশ্যমান। এখানে লুকানোর কিছু নেই।’
ইউসুফ আলী আরও বলেন, ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের যতটুকু সার প্রয়োজন, সরকারের কাছে তার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সার নিয়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিতে এবং আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
