পা কেটে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য, ৭ মাস পর বাবার দেখা পেল শিশু রায়হান
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার সাত মাস পর চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ১২ বছর বয়সী শিশু মো. রায়হানের সন্ধান মিলেছে চুনতি সীরাত মাহফিলে। সেখানে ভিক্ষা করার সময় স্থানীয়রা তাকে শনাক্ত করে পরিবারের খবর দেন। পরে বাবা নাজিম উদ্দিন গিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। রায়হান উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাতগড় নয়াপাড়ার দিনমজুর নাজিম উদ্দিনের ছেলে।
পরিবারের দাবি, সাত মাস আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে কক্সবাজারে যাওয়ার পর একটি চক্রের কবলে পড়ে রায়হান। পরে তাকে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় নিয়ে গিয়ে একটি পা কেটে দেওয়া হয়। এরপর তাকে দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষা করানো হতো বলে রায়হান জানিয়েছে।
রায়হানের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সে বাবা ও সৎমায়ের সঙ্গে বসবাস করত। তার সঙ্গে এক ভাইও থাকত। পরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে চুনতি সীরাত মাহফিল এলাকায় ভিক্ষা করার সময় স্থানীয় কয়েকজন রায়হানকে চিনতে পারেন। পরে তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে বাবা নাজিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেকে শনাক্ত করেন।
সাত মাস পর সন্তানকে ফিরে পেলেও রায়হানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে পরিবার। কারা তাকে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় নিয়ে গেল, কীভাবে তার পা কাটা হলো এবং কারা তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করেছে—এসব বিষয় এখনো তদন্তসাপেক্ষ। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে রায়হানের ঘটনা জানতে পেরে তার চিকিৎসা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনে সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনা এবং চলাচলের সুবিধার জন্য একটি ট্রাইসাইকেল দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
রায়হানের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়েও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত তার শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, “একজন শিশুর এভাবে পা হারানোর ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, রায়হান ও তার পরিবার অসহায় অবস্থায় রয়েছে। তার চিকিৎসা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।
