×

মুক্তচিন্তা

মস্তিষ্কের অদ্ভুত খেলা: কেউ সংখ্যায় পান স্বাদ, কেউ সুরে দেখেন রং

Icon

সুজন এন মজুমদার

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

মস্তিষ্কের অদ্ভুত খেলা: কেউ সংখ্যায় পান স্বাদ, কেউ সুরে দেখেন রং

ছবি: এআই নির্মিত

ভাবুন তো, যদি একবার পড়েই পুরো বই মুখস্থ করা যেত। আবার কেউ পরিচিত মানুষের মুখ চিনতে পারেন না। কেউ বা শব্দ শুনলে রং দেখতে পান। অনেকে আবার সংখ্যা দেখলে স্বাদ অনুভব করেন। মানুষের মস্তিষ্ক যে কত বিচিত্রভাবে কাজ করতে পারে, সেই বিস্ময়কর জগত নিয়েই এই প্রতিবেদন।

কিম পিক ছিলেন একজন স্যাভান্ট, অর্থাৎ নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন মানুষ। তাঁর ক্ষমতা ছিল, তিনি যা পড়তেন, তা আপাদমস্তক মনে রাখতে পারতেন। ঠিক একসঙ্গে দুটি পাতা করে পড়তে পারতেন, তাতে সময় লাগত মাত্র ১৪ সেকেন্ড। শুধু তা-ই নয়, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ, টেলিফোনের এরিয়া কোড, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো রাস্তার নেটওয়ার্ক তাঁর মুখস্থ ছিল। মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে এমন অসাধারণ কাজ করতে পারে, বিজ্ঞানীরা এখনো তার উত্তর খুঁজছেন। তবে স্যাভান্ট সিন্ড্রোমে আক্রান্ত মানুষদের জীবনে নানা সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, যেমন অটিজম বা গড় আইকিউয়ের চেয়ে কম আইকিউ।

‘আমি কি এই মানুষটিকে চিনি?’ এই প্রশ্নটিই বারবার মাথায় আসে প্রসোপ্যাগনোসিয়ায় আক্রান্ত মানুষের। সাধারণত আমাদের মস্তিষ্ক এক মিনিটেই একটি মুখ চিনে ফেলতে পারে। কপাল, মুখ, নাকের গঠন, এসব বৈশিষ্ট্য মনে রাখে। প্রসোপ্যাগনোসিয়ায় আক্রান্ত মানুষের সেই ক্ষমতা থাকে না। তাঁরা মুখ দেখতে পান, তবে সেটিকে নির্দিষ্ট মানুষের পরিচিত মুখ হিসেবে মনে রাখতে পারেন না। মুখের বদলে হাঁটার ধরন, কণ্ঠস্বর বা পোশাক দেখে তাঁরা কাউকে চিনতে পারেন। বিখ্যাত অভিনেতা ব্র্যাড পিটও প্রসোপ্যাগনোসিয়ায় আক্রান্ত। এবং এই রোগটি যতটা বিরল মনে হয়, আসলে ততটা নয়। পৃথিবীতে প্রায় দুই থেকে তিন শতাংশ মানুষ এতে আক্রান্ত।

আবার কেউ কেউ সংখ্যার স্বাদ পান বা শব্দ দেখতে পান। এই স্নায়বিক অবস্থার নাম সিনেস্থেসিয়া। এতে ইন্দ্রিয়গুলোর অনুভূতি একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। গায়িকা বিলি আইলিশ ও চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালক হান্স জিমারও নিজেদের সিনেস্থেট বা সহসংবেদী বলে পরিচয় দেন। তাঁরা শুধু কান দিয়ে সুর শোনেন না, চোখেও তা দেখতে পান। যেন প্রতিটি সুর একেকটি আলাদা রঙের। সব মিলিয়ে তৈরি হয় রঙিন এক ক্যালাইডোস্কোপ। সংগীত রচনার ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা বেশ কাজে লাগে। সিনেস্থেসিয়া বংশগত বলে মনে করা হয়। তাই একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মধ্যেও এটি দেখা যেতে পারে।

বিমূর্ত চিত্রশিল্পী ভাসিলি কান্দিনস্কি নাকি শুধু রং দেখতেন না, বরং রং শুনতেও পেতেন। সেই সুরই তিনি ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলতেন। কখনো তীব্র, কখনো শান্ত নানা রং এবং ঢেউ খেলানো রেখার মাধ্যমে।

লেখক: সুজন এন মজুমদার, গণমাধ্যমকর্মী

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

কেরানীগঞ্জে কিশোর গ্যাং সদস্যকে কুপিয়ে-গুলি করে হত্যা

কেরানীগঞ্জে কিশোর গ্যাং সদস্যকে কুপিয়ে-গুলি করে হত্যা

আদালতের রায়ে কাশিমপুর থেকে মুক্তি পেলেন ৮ জন

নুসরাত হত্যা মামলা আদালতের রায়ে কাশিমপুর থেকে মুক্তি পেলেন ৮ জন

দল-মত নির্বিশেষে দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দল-মত নির্বিশেষে দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

মস্তিষ্কের অদ্ভুত খেলা: কেউ সংখ্যায় পান স্বাদ, কেউ সুরে দেখেন রং

মস্তিষ্কের অদ্ভুত খেলা: কেউ সংখ্যায় পান স্বাদ, কেউ সুরে দেখেন রং

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App