দীর্ঘ ৫০ বছরেও সংস্কার হয়নি মার্কেট
হেলে পড়েছে বারান্দা, বাতাসে খসে পড়ে পলেস্তারা
কাগজ প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নির্মাণের পঞ্চাশ বছরেও সংস্কার হয়নি কুষ্টিয়া হাইস্কুল মার্কেট। শুধু মাত্র ইট-সিমেন্টের গাঁতুনিতে নির্মিত হাইস্কুলের আব্দুল ওয়াহেদ সুপার মার্কেটের এ ভবনটি এখন মৃত্বফাঁদে পরিণত হয়েছে। আতংকিত এ মার্কেটে আসা সাধারণ ক্রেতা পথচারীর ও দোকানি ও কর্মচারীরা।
জানা যায়, সরেজমিনে গেলে দেখা যায় একদিকে হেলে পড়েছে মার্কেট ভবনের বারান্দা, বিভিন্ন স্থান থেকে খসে পড়ছে পলেস্তার। এমনকি মানুষের চলাচলের সময় ভবন দুলে ওঠার অভিযোগও রয়েছে। এতে আতঙ্কের মধ্যে ব্যবসা করছেন দোকানি ও কর্মচারীরা। ১৯৭৬-৭৭ সালের দিকে প্রতিষ্টিত এ মার্কেটে বর্তমানে প্রায় ৫০টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ১৫০ জন।
প্রতিদিন ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও ক্রেতাদের পদচারণায় ব্যস্ত থাকে মার্কেটটি। তবে ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা ছড়িয়ে পড়ায় ক্রেতাদের উপস্থিতিও আগের তুলনায় কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মার্কেট ভবনের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণতার চিহ্ন স্পষ্ট। ছাদ ও দেয়ালের বেশ কিছু জায়গার পলেস্তারা উঠে গেছে। দুইতলা ভবনের বারান্দার একাংশ একদিকে হেলে রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মার্কেটের ভেতরে চলাচলের সময়ও অনেক সময় ভবন দুলে ওঠে। তারা বলছেন, ঝুঁকি জেনেও বাধ্য হয়ে দোকান খুলে বসতে হচ্ছে তাদের। কারণ, ব্যবসা বন্ধ করলে জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। আবার দোকানে বসেও তারা নিরাপদ বোধ করছেন না। ব্যবসায়ী শরিফ বলেন, “প্রতিদিন দোকান খুলে বসি, কিন্তু সবসময় একটা ভয় কাজ করে। ভবনের যে অবস্থা, কখন কী ঘটে বলা যায় না। ব্যবসা না করলে সংসার চলবে না, আবার দোকানে বসেও নিরাপদ বোধ করি না। ভবনের অবস্থা দেখে ক্রেতারাও আগের মতো আসতে চান না।”
আরেক ব্যবসায়ী মমিন বলেন, “অনেক বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। এখন মার্কেটের অবস্থা খুবই খারাপ। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে, ভবনও দুলে ওঠে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। নতুন ভবন হলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা দুই পক্ষই নিরাপদ থাকবে।” স্থানীয় বাসিন্দা রাজন বলেন, “মার্কেট ভবনটি যে ঝুঁকিপূর্ণ, বাইরে থেকেই তা বোঝা যায়। একদিকে হেলে আছে, বিভিন্ন জায়গা থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। এত মানুষের চলাচলের জায়গায় এমন ভবন পড়ে থাকা উদ্বেগের বিষয়।”
বিদ্যালয় ও মার্কেট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চের দিকে ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে অ্যাডহক কমিটির সভাপতিকে বিষয়টি জানানো হলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে একজন প্রকৌশলীকে দিয়ে ভবনের অবস্থা পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য করণীয় নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকৌশলীর মতামত অনুযায়ী, বিদ্যমান কাঠামো সংস্কার করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মার্কেটটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। তবে নতুন ভবন নির্মাণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘদিনের কম ভাড়া।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৭৬-৭৭ সালের নির্ধারিত হারের ভিত্তিতে এখনো অধিকাংশ দোকান থেকে মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পর পর সামান্য হারে ভাড়া বাড়ানো হলেও কোনো দোকানের ভাড়াই ৫০০ টাকার বেশি নয়। ফলে এই আয় দিয়ে এত বড় একটি মার্কেট নতুন করে নির্মাণ করা বিদ্যালয়ের পক্ষে সম্ভব নয়।
কুষ্টিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সাবানা ইয়াসমিন বলেন, মার্কেটের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। দোকানিরা মূলত জায়গার ভাড়া দেন এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত হারে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এই আয় দিয়ে পুরো মার্কেট পুনঃনির্মাণ করা সম্ভব নয়। বিষয়টি বর্তমান জেলা প্রশাসককেও জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত ১১ আগস্ট কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মার্কেটটি পরিদর্শন করেছেন।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও কুষ্টিয়া হাইস্কুলের সভাপতি তৌহিদ বিন হাসান বলেন, “আমি ভবনটি দেখে এসেছি। ভবনটি অনেক পুরোনো। প্রকৌশলীর মাধ্যমে এর বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করা হবে। প্রকৌশলী যদি ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন, তাহলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
