তাজমীন কীভাবে কক্সবাজারে গেল, যা বললেন তার মা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লায় কিশোরী জান্নাতুন তাজমীন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সামনে এসেছে তার কক্সবাজার যাত্রার বিষয়টি। পরিবারের দাবি, ফেসবুকে পরিচয় হওয়া কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলের কর্মচারী রাজু চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিল তাজমীন। তবে কীভাবে সে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন তার মা কেয়া খাতুন।
তাজমীনের মা কেয়া খাতুন জানান, কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কর্মরত রাজুর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়েছিল তার মেয়ের। ওই তরুণের সঙ্গে দেখা করতেই কক্সবাজারে যায় তাজমীন। যাওয়ার সময় মাকে জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে।
কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তাজমীন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে রয়েছে। মেয়েকে সেখান থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন তিনি। এ জন্য বান্ধবীর নাম এবং তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চান। কিন্তু তাজমীন এসব তথ্য জানায়নি।
মেয়ের বন্ধুবান্ধব নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন কেয়া খাতুন। কোনো অঘটন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তিনি। মেয়ের চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে খোঁজ রাখারও চেষ্টা করতেন। কিন্তু এত সতর্কতার পরও মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি বলে জানান তিনি।
এদিকে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাজমীনের মা যে বান্ধবীর কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি বয়সে তাজমীনের চেয়ে বড়। তবে হত্যাকাণ্ডে ওই বান্ধবী বা অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখনো মেলেনি। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাজমীন মোবাইল গেমে আসক্ত ছিল এবং পরিবারের সঙ্গে তার কিছু বিষয়ে মতবিরোধ ছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত একজনই—সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা বাসে পদুয়ারবাজারের হোটেল নূরজাহানে নামে তাজমীন। সেখান থেকে কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে। পুলিশের দাবি, চালক সুমন তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
