×

সারাদেশ

১৫ বছর ধরে শিকলে বাঁধা হাফেজ আবদুল খালেক

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২১, ০৮:২৪ পিএম

১৫ বছর ধরে শিকলে বাঁধা হাফেজ আবদুল খালেক

মানসিক ভারসাম্যহীন আবদুল খালেক

মৃত্যুর পর হাফেজ সন্তানের ইমামতিতে জানাজার নামাজ পড়ানো হবে। আবার হাফেজ হয়ে পবিত্র কুরআনের আলোয় নিজ পরিবারের পাশাপাশি এলাকাকে আলোকিত করবে- এমন চিন্তায় সন্তানকে হাফেজি পড়ানোর মাধ্যমে হাফেজ বানাতে সক্ষম হলেও তাতে বাঁধ সেজেছেন বিধাতা।

হাফেজ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শিকলে বাঁধা জীবন কাটাচ্ছেন সেই হাফেজ আবদুল খালেক। গত প্রায় ১৫ বছর ধরে শিকলে বাঁধা অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে এই কুরআনের হাফেজকে।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৫নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের ভোটাল গ্রামের মৃত আবদুল কুদ্দুসের ছেলে আব্দুল খালেকের (৩৫) করুণ কাহিনী এটি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর পর হাফেজ সন্তানের ইমামতিতে জানাজার নামাজ পড়াবে- এমন চিন্তায় ভোটাল গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের ইচ্ছায় উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের জয়শ্রী রাহমানিয়া আরাবিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় হাফেজি পড়া শুরু করে আব্দুল খালেক। পড়াশোনায় সে খুব মনোযোগী ছিল। কিন্তু হাফেজি পড়া শেষ করার পর কয়েক মাসের মধ্যে সে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। হারিয়ে ফেলেন মানসিক ভারসাম্য। পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে চিকিৎসা করানো হলেও, বর্তমানে বসত ঘরের সঙ্গে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

আবুদল খালেকের মা শামছুন্নাহার জানান, মৃত্যুর পর হাফেজ সন্তানের ইমামতিতে জানাজার নামাজ পড়ানো হবে। আবার হাফেজ হয়ে পবিত্র কুরআনের আলোয় নিজ পরিবারের পাশাপাশি এলাকাকে আলোকিত করবে- এমন চিন্তায় ছেলে আব্দুল খালেককে হাফেজি পড়তে দেন তার পিতা। কিন্তু হাফেজ হলেও সে গত ১৫ বছর ধরে মানসিক রোগে আক্রান্ত। বিভিন্ন সময় ঘরের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে। বিভিন্ন সময় এদিক সেদিক চলে যায়। পরিবারের পক্ষে সারাক্ষণ তাকে দেখে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। এজন্য তাকে ঘরে বেঁধে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তিনি বলেন, রাতে ছেলের পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় ঘরে ঘুমানোর ব্যবস্থা করি। কিন্তু ছেলের এমন অবস্থায় মা হয়ে আমি নিজেও সারারাত ঘুমাতে পারি না। কারণ কখন সে কী করে বসে এই দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। আমি গরিব মানুষ। আমার স্বামী শ্রমিকের কাজ করতেন, ছেলে অসুস্থ হওয়ার পর সম্পত্তি বিক্রি করেও তার চিকিৎসা করা হয়েছে। তার বাবাও কয়েক বছর আগে মারা যান। বর্তমানে ঠিকমতো সংসার চালানো আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না, ছেলের চিকিৎসা করব কীভাবে? এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা শামসুন নাহার ছেলের চিকিৎসায় বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন।

জয়শ্রী রাহমানিয়া আরাবিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহ্তামিম হাফেজ মহসিন মিয়া জানান, আবদুল খালেক খুব মেধাবী ছাত্র ছিল। সে অসুস্থ হওয়ার পর আমরা মাদ্রাসায় আমাদের তাওফিক অনুযায়ী দোয়ার আয়োজন করেছি। বর্তমানে সে শিকল বাঁধা অবস্থায় আছে, বিষয়টি অনেক দুঃখজনক। তাকে সুস্থ করার জন্য আল্লাহর রহমতের পাশাপাশি সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল গনি বাবুল পাটওয়ারী বলেন, বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে মানসিক ভারসাম্যহীন আবুদল খালেকের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেষ্টা করব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মধ্যস্থতায় কমতে পারে ৪৫ লাখ মামলার জট: আইনমন্ত্রী

মধ্যস্থতায় কমতে পারে ৪৫ লাখ মামলার জট: আইনমন্ত্রী

অক্টোবরে যোগ দেবেন প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক

অক্টোবরে যোগ দেবেন প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক

শাপলা টকিজ বন্ধ, সিনেমা হলশূন্য রংপুর

শাপলা টকিজ বন্ধ, সিনেমা হলশূন্য রংপুর

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন তারেক রহমান

বিএনপির স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন তারেক রহমান

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App