মধ্যস্থতায় কমতে পারে ৪৫ লাখ মামলার জট: আইনমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কার্যকর মধ্যস্থতা (মেডিয়েশন) ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের আদালতে বিচারাধীন প্রায় ৪৫ লাখ মামলার জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতা এবং দেওয়ানি মামলা পরিচালনা পদ্ধতির উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘আইন পেশাজীবীদের জন্য মৌলিক মধ্যস্থতা প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো দরিদ্র, প্রান্তিক, সুবিধাবঞ্চিত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার এসব মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, একজন মধ্যস্থতাকারীর জন্য শুধু আইনগত জ্ঞানই যথেষ্ট নয়; মানবিকতা, প্রজ্ঞা, ধৈর্য এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে সমাধান তৈরির সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি অংশগ্রহণকারীদের জাপানের ‘জাস্টিস উইথ আ স্মাইল’ (হাসিমুখে ন্যায়বিচার) গ্রন্থটি পড়ার আহ্বান জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, অনেকের ধারণা আইনজীবীরা সমঝোতার পথে যেতে অনাগ্রহী থাকেন। তবে বাস্তবে দেশে-বিদেশে অসংখ্য সফল মধ্যস্থতা ও সালিশের পেছনে আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে আইন পেশায় আলোচনাভিত্তিক বিরোধ নিষ্পত্তির একটি ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে উঠছে, যা আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, মধ্যস্থতা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় বছরের পর বছর সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয়ের পাশাপাশি মানসিক চাপ ও নানা ধরনের শারীরিক সমস্যারও সৃষ্টি হয়। তাই হত্যা বা অন্যান্য গুরুতর অপরাধ ছাড়া অধিকাংশ বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, এ প্রকল্পের আওতায় সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রদর্শনকারী একজন নারী ও একজন পুরুষ মধ্যস্থতাকারীকে জাপানে উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। এতে তারা আরও দক্ষ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পেশাদারভাবে দায়িত্ব পালন করতে উৎসাহিত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি জাপান সরকার, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা), জাপানের কেইও ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের অধ্যাপক ও আইনজীবী মাসাকো মিয়াতাকে এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও জাপানের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ঢাকা-নারিতা রুটে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাইকার যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. খাদেমউল কায়েসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি জুনকো তাকাহাশি, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের (আইসিডি) উপমহাপরিচালক কাজুনোরি নোসে এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন বক্তব্য দেন।
দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার এবং জেলা জজ আদালতে কর্মরত আইনজীবীসহ ৪০ জন অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে মধ্যস্থতা পদ্ধতির মৌলিক ধারণা, কার্যকর যোগাযোগ কৌশল, সমঝোতা পরিচালনার দক্ষতা, ব্যবহারিক অনুশীলন এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণের প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন জাপানের কেইও ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট আইনজীবী মাসাকো মিয়াতাকে। তিনি মধ্যস্থতা বিষয়ে জাপানের অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক সেরা চর্চা এবং ব্যবহারিক কৌশল তুলে ধরেন।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে মধ্যস্থতা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিচারপ্রার্থীদের জন্য সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
