ফেসবুকে স্ট্যাটাস পড়ে লিচু বাগান কিনলেন ইউএনও
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২০, ০২:২১ পিএম
বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে লিচু। ছবি: প্রতিনিধি
ইউএনও মো. তমাল হোসেনে
স্ত্রীর অল্প একটু জমিতে গড়ে উঠেছে মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফুল ইসলামের একটি লিচু বাগান। বাগানে রয়েছে ১৭টি গাছ। প্রতিটি গাছে ঝুলছে রসালো লিচু। স্ত্রী, দুই ছেলে আর মেয়ে নিয়ে তার পরিবার। বাড়ি নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভার উত্তরনারী বাড়ি মহল্লায়। পান নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা। সেই ভাতার টাকা আর দুই ছেলের অল্প কিছু আয়ের অংশ দিয়েই চলে তাদের সংসার। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বদলে গেছে তাদের সপ্ন।
গত বছরে ৬০ হাজার টাকায় বাগানটি বিক্রি করেছিলেন তিনি। এ বছরও অনেক চেষ্টার পর ৩২ হাজার টাকায় বাগানটি বিক্রি করেছিলেন এক বিক্রেতার কাছে। বায়না হিসেবে ২ হাজার টাকাও দিয়েছিলেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে সেই বিক্রেতা মুঠোফনে জানান, তার বাগানটি তিনি নিতে পারবেন না। এ অবস্থায় ভেঙে পড়েন মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।
[caption id="attachment_221155" align="aligncenter" width="700"]
বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে লিচু। ছবি: প্রতিনিধি[/caption]
এমন অবস্থায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয় মুক্তিযোদ্ধার ছোট সন্তান আকরাম (৩০। ঘটনার রাতেই স্ট্যাটাসটি নজরে আসে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেনের। পরদিন রবিবার (১৮ মে) দুপুরে মুক্তিযোদ্ধার বাগানে গিয়ে তার লিচু বাগান পরিদর্শন করেন ইউএনও। তারপর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্রয় করা হয় বাগানটি। বায়না হিসাবে পাঁচ হাজার টাকাও দেয়া হয়েছে। তাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ও দুই ছেলের অল্প কিছু আয়ের অংশ দিয়ে চলে তার সংসার। প্রতি বছরে বাগান থেকে কিছু টাকা আসে। করোনার প্রভাবে তার বাগানটি বিক্রি করতে পারছিলেন না। এমন অবস্থায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও তমাল হোসেন বাগানটি ক্রয় করায় তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
ইউএনও তমাল হোসেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের ক্ষুদে বার্তা আমাকে বিমর্ষ করেছে। ঘটনার দিন রাতেই তার ঠিকানা নিয়ে পরদিন দুপুরে তার বাগান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তার বাগানটি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক দায়িত্ব নেয়া হয়েছে। অগ্রিম হিসাবে পাঁচ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। লিচু বিক্রির উপযুক্ত সময় না হওয়া পর্যন্ত বাগানটি পরিচর্চা ও পরিদর্শন করার জন্য রাখা হয়েছে একজন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বিএস)।
