গাজায় ২ মসজিদে আগুন দিয়েছে ইসরায়েলিরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালিয়ে দুটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (২৪ জুলাই) নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে তাল গ্রামের আশপাশে একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী প্রবেশ করলে স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা বাধা দেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে চার ফিলিস্তিনি এবং দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় নতুন করে হামলার ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৬ জুলাই) ভোরে নাবলুসের দক্ষিণ-পূর্বে কুসরা গ্রামের একটি নবনির্মিত মসজিদে আগুন দেওয়া হয়। গ্রামের পরিচালনা পরিষদের প্রধান আবদেল আজিম ওয়াদি জানান, অগ্নিসংযোগে মসজিদের প্রবেশদ্বার এবং বাইরের পাথরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন : ‘আন্দোলনের প্রথম দিনই পদত্যাগে প্রস্তুত ছিলেন ধর্মেন্দ্র’
ঘটনার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থলে অগ্নিসংযোগ এবং উসকানিমূলক গ্রাফিতির আলামত পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে ইসরায়েলি পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দাবি, হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘বেনায়াহুর প্রতিশোধ’ এবং ‘ইহুদিদের প্রতিশোধ’ লিখে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবারের সংঘর্ষে নিহত ইসরায়েলি সেনা বেনায়াহু মেলেটকে উল্লেখ করেই এসব লেখা হয়েছে।
আবদেল আজিম ওয়াদি বলেন, ২০১১ সাল থেকে কুসরা গ্রাম বারবার হামলার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আরও পড়ুন : দেশের স্বার্থে ট্রাম্পের সমালোচনা করতেও পিছপা হব না
এদিকে ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুলকারেম এলাকার কুর গ্রামেও আরেকটি মসজিদে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সেখানেও দেয়ালে বর্ণবাদী ও উসকানিমূলক স্লোগান লেখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে স্থাপিত ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
