এবার পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এবার পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী হরজোত সিং বেইন্সকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন নিয়োগ ও শিক্ষাবিষয়ক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবি করেছে বিজেপি। যদিও এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান দাবি করেছেন, গত সাড়ে চার বছরে রাজ্যে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি।
বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি প্রশ্ন তোলেন, নৈতিকতার প্রশ্নে পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী কবে পদত্যাগ করবেন? একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল কবে হরজোত সিং বেইন্সের পদত্যাগ দাবি করবেন। খবর এনডিটিভির
বিজেপির অভিযোগ, পাঞ্জাব স্কুল এডুকেশন বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা, পাঞ্জাব স্টেট টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট (পিএসটিইটি) এবং কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস হয়েছে। পাশাপাশি পাঞ্জাব সাবঅর্ডিনেট সার্ভিসেস সিলেকশন বোর্ডের গ্রুপ-বি এবং সম্মিলিত নিয়োগ পরীক্ষাতেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে দলটি। এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
এ ছাড়া নাইব তহসিলদার ও ফার্মাসি অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায় বড় ধরনের নকল এবং এক্সাইজ অ্যান্ড ট্যাক্সেশন ইন্সপেক্টর নিয়োগের মেধাতালিকায় ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্ত থাকার অভিযোগও করেছে বিজেপি।
পাঞ্জাব কংগ্রেসের সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিংও দাবি করেন, গত চার বছরে রাজ্যে অন্তত ছয়টি বড় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, "চার বছরে ছয়টি বড় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এরপরও কোনো জবাবদিহি নেই। পাঞ্জাবের শিক্ষার্থীরা জবাবদিহি ও একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ চায়।"
তবে বিজেপি ও কংগ্রেসের এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি।
মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান বলেন, গত সাড়ে চার বছরে পাঞ্জাবে একটি প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়নি। তার ভাষ্য, কোথাও নকলের চেষ্টা ধরা পড়লেও সেটিকে প্রশ্নফাঁস বলা যাবে না।
আরো পড়ুন: ‘আন্দোলনের প্রথম দিনই পদত্যাগে প্রস্তুত ছিলেন ধর্মেন্দ্র’
তিনি বলেন, "আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, গত সাড়ে চার বছরে পাঞ্জাবে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না। এটি আমার গ্যারান্টি।"
ভগবন্ত মান আরও জানান, দুটি স্থানে পরীক্ষায় নকলের চেষ্টা ধরা পড়েছিল। তবে প্রশাসন মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট নকলচক্রের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
আম আদমি পার্টির আরেক নেতা বালতেজ পান্নুও বিজেপি ও কংগ্রেসের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, একটি ঘটনায় কয়েকজন পরীক্ষার্থী ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে নকলের চেষ্টা করেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বালতেজ পান্নুর অভিযোগ, বিজেপি ও কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে নকলের ঘটনাকে প্রশ্নফাঁস হিসেবে উপস্থাপন করছে, যাতে অন্য বিষয় থেকে জনমত ভিন্নদিকে নেওয়া যায়।
তিনি আরও দাবি করেন, কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের আমলে ৯০টিরও বেশি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল। এখন সেই সমালোচনা এড়াতেই দলটি অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরই পাঞ্জাবের এই রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে এক মাসব্যাপী আন্দোলনের পর শনিবার তিনি পদত্যাগ করেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
